বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সময়ের অবিসংবাদিত ওপেনার এবং সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এবার দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ বিসিবি সভাপতি হওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন। ‘সামিরস্ক্যান’ নামের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি দেশের ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনার গুরুদায়িত্ব নেওয়ার তীব্র ইচ্ছা ও স্বপ্নের কথা জানান।
পডকাস্টে তামিমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে তিনি বিসিবি সভাপতি হতে চান কি না। জবাবে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তামিম বলেন, ‘যদি সুযোগ আসে, অবশ্যই।’ এই পদের জন্য নিজের যোগ্যতা আছে কি না এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী তামিম জানান, তিনি মনে করেন তার সেই সামর্থ্য অবশ্যই আছে।
দীর্ঘদিন বিসিবি যারা পরিচালনা করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তামিম এক সাহসী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা বা বয়সের চেয়েও সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য। অনেক অভিজ্ঞ মানুষ তো ২০ বছর ধরে বিসিবি চালিয়েছেন। তারা কি খুব ভালো করছেন? এতদিন তো অভিজ্ঞদের ওপর বিশ্বাস করেছেন, একবার আমাদের মতো অনভিজ্ঞদের ওপরও বিশ্বাস করে দেখতে পারেন।’
গত অক্টোবরে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনেই সভাপতি পদে লড়াই করার জোরালো গুঞ্জন ছিল তামিমকে ঘিরে। তবে তৎকালীন সময়ে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে শেষ মুহূর্তে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তার সঙ্গে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশও তখন নির্বাচন বর্জন করেছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনিয়মিত থাকলেও ক্লাব ক্রিকেটে সংগঠক হিসেবে বেশ সক্রিয় রয়েছেন তিনি। কদিন আগে গত অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করে এসেছেন ক্লাব সংগঠক হিসেবে। দেশের ক্রিকেটিং সার্কেলে নিজের সাংগঠনিক সামর্থ্য নিয়ে সবার ধারণা আছে উল্লেখ করে তামিম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি শুধু পদ নয় বরং পরিবর্তনের উদ্দেশ্য নিয়েই বিসিবির নেতৃত্বে আসতে চান। এখন দেখার বিষয়, বিসিবির কাঠামোতে কীভাবে তিনি প্রবেশ করেন।
