বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুরের কাছে তিন পয়েন্ট পাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
সোমবার কাবরেরার ঢাকা ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৮ ফুটবলার ঢাকার একটি হোটেলে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে কানাডা প্রবাসী শামিত সোম ছাড়া বাকিরা এসেছেন সন্ধ্যায়। শামিতের রাতেই ঢাকায় নেমে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আর ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে দলে যোগ দেবেন লেস্টার সিটি তারকা হামজা চৌধুরী। কাবরেরা দল নিয়ে ভিয়েতনাম যাবেন ২০ মার্চ রাতে। হামজা ২৩ মার্চ লন্ডন থেকে সরাসরি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ক্যাম্প শুরুর সংবাদ সম্মেলনে কাবরেরা সামনের দুটি ম্যাচকেই দেখছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে, ‘এ বছর শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। ফেডারেশন সেই সুযোগ করে দিয়েছে। সিঙ্গাপুর গিয়ে তিন পয়েন্ট পাওয়া বড় অর্জন হবে। এতে আমরা গ্রুপপর্ব ৮ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করতে পারব।’
তবে এই দুই ম্যাচের আগে দলে নেই দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রাকিব হোসেন ও তপু বর্মণ। দুজনই কার্ডের খাঁড়ায় কাটা পড়েছেন। দুজন খেলোয়াড় না থাকার ক্ষতি মেনেই এটাকে অন্যদের নিজেদের প্রমাণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন কাবরেরা, ‘রাকিব আমাদের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে অন্যদের সুযোগ আসে নিজেদের দেখানোর। আমরা এমন কয়েকজন খেলোয়াড়কে দলে ডেকেছি, যারা দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিল।’
দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চোট পাওয়ার পর প্রায় দেড় বছর মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। কাবরেরা জানান, ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বনাথ এখন ভালো অবস্থায় আছে এবং রক্ষণভাগের একাধিক পজিশনে খেলতে পারে। তপু বর্মণের অনুপস্থিতিতে তার ফিরে আসা দলকে শক্তি জোগাবে বলেও মনে করেন কোচ।
এদিকে হামজাকে নিয়েও আশাবাদী কাবরেরা। লেস্টারের হয়ে খেলার সময় চোট পাওয়ার পর তাকে পাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল। তবে চোট কাটিয়ে ফের খেলায় ফিরেছেন, ‘হামজা ভালো আছে। লেস্টার সিটির হয়ে শেষ ম্যাচেও খেলেছে। আমি তার এবং ক্লাবের ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করি ভিয়েতনাম ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে।’
জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে নতুন গোলকিপিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা। গত এক বছরে জাতীয় দলে রানাকে নিয়ে পাঁচজন গোলকিপিং কোচ কাজ করেছেন। রানা অবশ্য এ মুহূর্তে সেরা গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। বসুন্ধরা কিংসের হয়ে চলতি মৌসুমে নিয়মিত খেললেও কাবরেরার কাছে কিংসের বেঞ্চ গরম করা মেহেদী হাসান শ্রাবণই সেরা। জিকোকে না নেওয়ার ব্যাখ্যায় কাবরেরা বলেছেন, ‘দল নির্বাচন সব সময়ই কঠিন। জিকো বেশি ম্যাচ খেলেছে ঠিকই। অনেক ম্যাচ ক্লিনশিট রেখেছে। তবে আমার কাছে শুধু ক্লিনশিট থাকাই সব না। আমার চোখে শ্রাবণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান গোলরক্ষক। তাকে জাতীয় দলে না রাখাটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হতো।’
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বড় বিরতি শেষে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরে বেশ খুশি। তিনিও সিঙ্গাপুর থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে চান। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১০৮-এ থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘ভিয়েতনাম ম্যাচ...এটা কঠিন হবে। আমার তো মনে হয় সিঙ্গাপুরের থেকে ভিয়েতনাম কঠিন হবে। তবে ইটস এ গুড প্রিপারেশন ম্যাচ। কারণ আমরা যদি একটা ভালো ম্যাচ খেলতে পারি ভিয়েতনামের সঙ্গে, তাহলে ইটস গোনা বি ইজিয়ার ফর আস টু প্লে এগেইনস্ট সিঙ্গাপুর। তবে আমার লক্ষ্য হচ্ছে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট। তবে অবশ্যই সবাই চায় দুটি ম্যাচ জিততে। তবে দুটি ম্যাচই কঠিন হবে।’
৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পরই কাবরেরার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তবে এ নিয়ে বাড়তি চাপ অনুভব করছেন না তিনি। বরং চুক্তি নবায়ন নিয়ে আশাবাদী কোচ, ‘আমি মনে করি না কোনো সিদ্ধান্ত একটি ম্যাচের ওপর নির্ভর করে। আমি এখানে অনেক দিন ধরে কাজ করছি এবং সভাপতি (তাবিথ আউয়াল) জানেন আমি দলকে কী দিতে পারি। সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অবশ্যই আমি ফেডারেশনের কথা শুনতে চাই এবং তারাও নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইবে। এরপরই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন কাবরেরা। তবে নিজ দলকে ভালো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এশিয়ান কাপের মূলপর্বে নিয়ে যেতে না পারায় আক্ষেপ আছে কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান কোচ, ‘মেয়েদের পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদেরও বড় স্বপ্ন আছে এবং ছেলেদের দল নিয়েও আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’
এই দুই ম্যাচ হতে যাচ্ছে কাবরেরার জন্য অগ্নিপরীক্ষা। এই পরীক্ষা উতরে গেলে হয়তো এই কোচকে দেখা যাবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও।
