তারেক রহমান সরকারের এক মাস গতকাল পূর্ণ হলো। পাঁচ বছরের যাত্রার এক মাস যৎসামান্য সময়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারপ্রধান ও তার মন্ত্রীরা যে বদ্ধপরিকর, সেটা বোঝা যায় কর্মব্যস্ততায়। তারেক রহমান প্রথম দিনই লোভের বেড়ালটি মেরেছেন এই নির্দেশ দিয়ে যে, সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি নিতে পারবেন না। ওটাই ছিল সূচনা। নির্বাচনে যেসব ওয়াদা দিয়েছিলেন, সেসবের সূচনা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে। খালকাটা কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। কৃষক কার্ড দেওয়ার জন্য পহেলা বৈশাখ, ১৪ এপ্রিলকে বেছে নিয়েছেন সরকারপ্রধান। এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের আগে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত-সেবায়েত ভাতা চালু হয়েছে। অর্থাৎ জনগণমুখী সেবা ও সহযোগিতার পথে হাঁটছে সরকার। উৎপাদক কৃষকরাই যে তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য, তা বোঝা যায়।
বিএনপি মহাসচিব এবং পল্লী উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেও বোঝা যায়, তারা ওয়াদা পালনে দৃঢ়। এই সেবা ও উন্নয়ন চিন্তার মধ্যে নতুন একটি প্রেরণা আমরা লক্ষ্য করছি। তা হলো শহীদ জিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা। তিনি শুরু করেছিলেন খালকাটা কর্মসূচি, শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রেখে সেচের মাধ্যমে ফসল ফলানোর যে ড্রামাটিক ধারার সূচিমুখ খুলে দিয়েছিলেন, সেই পথই যে সঠিক উন্নয়নের রাজপথ তা প্রমাণ করতে চলেছেন তারেক জিয়া। কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের কৃষি অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়ন, যার ওপর নির্ভর করে আমাদের অর্থনীতি ও প্রাগ্রসর চেতনার পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। প্রশাসনের দক্ষ কর্মকর্তারা সেবার মনোভাব নিয়ে সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে মনে করি। সে মনোভাব কি প্রশাসনের ভেতরে জন্ম নিয়েছে? নাকি অতীতে তারা যেসব ঘোরতর প্যাঁচের ইতিহাস রচনা করেছেন, এবারও সেই দলান্ধ ও স্বার্থ-উদ্ধারের অনৈতিক পথেই এগোবেন? নাকি তারেক রহমান যে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সূচিমুখ খুলে দিয়েছেন, সেই পথে কর্মবীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন? এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, অতীতে আমরা দেখেছি কীভাবে ভালো প্রকল্প নষ্ট হয়েছে বাস্তবায়নকারীদের অসহযোগিতা, ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা প্রশংসার জোয়ারে ভেসে।
স্তুতি দেখতে চায় না মানুষ, তারা কাজ দেখতে চায়। সেই পথে কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, বৃক্ষরোপণ ও খালকাটা কর্মসূচি শুরু হলেও এ যাত্রাপথ অনেক দীর্ঘ। সেই যাত্রায় নিজেদের সংকীর্ণতা পরিহার করে প্রকৃত সেবার মনোভাব নিতে হবে। আমলাদের দক্ষতা বাড়ানো, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালনা করার দক্ষতা থাকতে হবে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের। জনপ্রতিনিধি আর আমলাদের মধ্যে একটি মানবিক-সামাজিক ন্যায়বোধ সৃষ্টি না হলে, সমন্বিতভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি পাবে না। পর্যবেক্ষক, বিশ্লেষকদের মতে, এক মাসে যে সূচনা, তা প্রতীকী। কিন্তু নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর কর্মোদ্যোগ জনগণের মধ্যে প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। তারা ধরে নিয়েছেন, তারেক রহমান পারবেন তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে। তা অর্জিত হলে জনগণের প্রত্যাশাই কেবল পূর্ণ হবে না, দেশে আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য, দেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন। সেই উন্নয়ন যাত্রায় যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে, তা অপসারণে সরকারকে সহযোগিতা দিতে হবে শিক্ষিত সচেতন দেশপ্রেমিক জনগণকে। দখলবাজ, চাঁদাবাজকে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করা সবার দায়িত্ব। সুদীর্ঘকাল পরে জনমনে যে আশা জেগেছে, তাকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতিদ্রুত বাস্তবায়নের চেয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার মতো দৃঢ়তা নিতে হবে। বুঝতে হবে কোনটা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, কোনটা মধ্যমেয়াদে আর কোনটা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করতে হবে।
