লেবাননে স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে ইইউর সতর্কতা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪ এএম

লেবাননে কোনো ধরনের স্থল অভিযান না চালাতে ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছেন কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতারা। গত সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই লেবাননে স্থল আক্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হলো। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে নেতারা সব পক্ষের হামলা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন এবং পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের একটি বড় ধরনের স্থল অভিযান ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত তৈরি হতে পারে। এটি অবশ্যই ঠেকাতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলমান গণ-বাস্তুচ্যুতিসহ লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। লেবাননের দুর্যোগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার কারণে দেশটিতে অন্তত ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৮৬ জন লেবানিজ নিহত এবং ২ হাজার ১৪১ জন আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই হিজবুল্লাহ ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যা ইসরায়েল শত শত বার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ইসরায়েলের দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সোমবারের যৌথ বিবৃতিতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা বেসামরিক নাগরিক, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যকর্মী এবং লেবাননে নিযুক্ত জাতিসংঘ অন্তর্বর্তী বাহিনীর ওপর হামলার নিন্দা জানাই। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ইউরোপীয় নেতারা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলে হামলা বন্ধ এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানান। তারা ইরানের সঙ্গে হিজবুল্লাহর যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে আরও হুমকির মুখে ফেলেছে। লেবানন সরকারকে দলটিকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানানো হলেও হিজবুল্লাহ দীর্ঘকাল ধরে বলে আসছে যে, দক্ষিণ সীমান্তে ইসরায়েলি হুমকি বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। ইরানের দীর্ঘদিনের সমর্থনে হিজবুল্লাহ বর্তমানে লেবাননের নিয়মিত সেনাবাহিনীর চেয়েও শক্তিশালী একটি বাহিনী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার তাদের সৈন্যরা দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত স্থানে ঢুকে পড়েছে। মূলত সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থল অভিযানের পাশাপাশি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত