আকস্মিক ঝড়ে কয়েকশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৩০ এএম

ভোলার চরফ্যাশনে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হঠাৎ করে মধ্যরাতে ধেয়ে আসা এ ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলো। গতকাল মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে দক্ষিণ দিক থেকে আসা আকস্মিক ঝড়ে চরফ্যাশনের বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা প্রবল ঝড়ে রূপ নেয়। ঝড়ের সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। এতে টিনের চালা উড়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঢালচর ইউনিয়নসহ চর কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা ও নজরুল নগর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ঢালচর ইউনিয়নের বেশিরভাগ কাঁচা ঘরবাড়ি ঝড়ে টিকতে পারেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ জানান, রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তীব্র ঝড়ে তার বসতঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, এর মধ্যেই মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।’

একইভাবে ওই ইউনিয়নের আরও কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো. গিয়াস উদ্দিন।

চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হাওলাদার জানান, ঝড়ের তীব্রতায় বাজারে তার দোকানঘরের চালা উড়ে গেছে। ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও বন কর্মকর্তা মঈনুল বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

পটুয়াখালীতেও আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল রাত পৌনে ১টার দিকে হঠাৎ উপকূলীয় এলাকায় এ ঝড়টি আঘাত হানে। এতে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় বেশকিছু বসতবাড়ি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকশ অধাপাকা বসতঘর। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। রাত ১টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিল কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাপাড়া উপজেলা। এ উপজেলার ধানখালী, বালিয়াতলী, ডালবুগঞ্জ, টিয়াখালী ও লতাচাপলী ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। তবে ঠিক কি পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি এখনো নিরূপণ করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত