ঈদে নতুন জামাকাপড় পরা হলো না শিশু মরিয়মের

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

আর মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। একমাত্র কন্যা শিশুর জন্য কয়েক জোড়া ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনে রেখেছিল তার বাবা-মা। কিন্তু ঈদের সেই নতুন জামা-কাপড় পরা হলে না শিশু মরিয়মের। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ)  আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা  থেকে তার নিথরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামে। শিশু মরিয়ম আক্তার (৪) একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা। ঈদের আগে চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়  শিশু মরিয়ম। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি। একইদিন ইফতারের আগে  বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে মরিয়মের নিথর দেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মরিয়মের মামা হাবিবুর রহমান বলেন,আমার ভাগনীর জন্য ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনে ছিলেন তার বাবা-মা। আমিও আজ নতুন জামা কিনতে মার্কেটে গিয়েছিলাম। এমন সময় খবর আসে মরিয়মকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মরিয়মের গলায় একটি রূপার চেইন ছিল। সেই চেইন ছিনতাই করে নেওয়ার সময় চিৎকার শুরু করে মরিয়ম। ধারণা করা হচ্ছে এসময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। আমরা নিষ্পাপ শিশু হত্যার বিচার চাই।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা সন্দেহজনক ওই এলাকার ইয়াছিন মিয়াকে(১৬) আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এসময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইয়াছিনের বাবা সাদ্দাম মিয়াকেও (৩৮) হেফাজতে নেয়।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি  রবিউল আজম বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশু মরিয়মের নিথরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির গলায় থাকা রূপার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা থেকে এমন কান্ড ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ইয়াছিন মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তার বাবাকেও পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত