ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
এক সপ্তাহ আগেও এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলে আসছিল।
এদিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে বউ তুলে নিতে গিয়ে সালিশ বৈঠকে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির মরদেহ দেখতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন আরেকজন। গত সোমবার রাতে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ডোলভিটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া ও গোয়ালনগর মসজিদের ইমাম মো. হাবিবুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ নিয়ে জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি জিয়াউর রহমান গোয়ালনগর গ্রামে শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করেন এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেন। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফের রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষ চলাকালে প্রথমে রহিম গোষ্ঠীর আক্তার মিয়া নিহত হন। এ সময় ঝগড়া থামাতে গিয়ে মো. হাবিবুর রহমান নামে স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর রহিম তালুকদার ও কাসেম গোষ্ঠীর কাসেম মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া মেলেনি।
নাসিরনগর থানার ওসি শাহীনুল ইসলাম বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন সকাল থেকে সংঘর্ষে জড়ায়। তারা দুই গোষ্ঠী নিজেরা নিজেরা সমঝোতা করেছে বলে মারামারি করবে না এমন কথা থাকলেও গতকাল ভোর রাত থেকেই তারা মারামারি শুরু করে। এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বউ নিতে এসে সালিশে সংঘর্ষে নিহত ১, আরেকজনের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে বউ তুলে নিতে গিয়ে সালিশ বৈঠকে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির মরদেহ দেখতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন আরেকজন। গত সোমবার রাতে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ডোলভিটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়ে, সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তি ডোলভিটি পূর্বপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে সোহেল রানা (৩৫)। আর হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া ব্যক্তি একই গ্রামের সেকেন্দর আলীর ছেলে মজনু মিয়া (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ডোলভিটি এলাকার লিটন মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের চাপারকোনা এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে রনি মিয়ার কাবিন হয়। এরপর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। গত সোমবার রাতে রনি মিয়া বন্ধুবান্ধব নিয়ে স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে যান। মেয়ের বাবা লিটন মিয়া তাকে মেয়ে তুলে দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে লিটন মিয়ার পরিবারের লোকজন রনি মিয়ার ওপর হামলা করে। হট্টগোল শুনে প্রতিবেশী সোহেল রানা ঘটনাস্থলে গিয়ে রনি মিয়ার পক্ষ নিয়ে কথা বলতে গেলে লিটন মিয়ার লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠির আঘাতে সোহেল রানা গুরুতর আহত হয়ে ধানক্ষেতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। সোহেলের মরদেহ দেখতে গিয়ে মজনু মিয়া হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সোহেল রানার মরদেহ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
রনি মিয়ার স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, কাবিন হয়েছে, কিন্তু তারা মেয়ে দিতে চাইছিল না। আলোচনা করে মেয়ে নিতে এসেছিলাম। কিন্তু তারা উত্তেজিত হয়ে প্রথমে হামলা শুরু করে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত লিটন মিয়ার মা আছিয়া বেগম বলেন, রনি দলবল নিয়ে আমার নাতনিকে জোর করে তুলে নিতে এসেছিল। তারাই আগে আমার ছেলের ওপর হামলা করেছে। আমরা এক সপ্তাহ পর মেয়ে তুলে দিতে চেয়েছিলাম। আমার ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে আছে।
সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বিবাহসংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে মারামারি হয়। সোহেল রানার মরদেহ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যজন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
