ছুটি শেষেও ঈদের আমেজ অফিস-আদালতে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫১ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস ছিল গতকাল মঙ্গলবার। নিয়ম অনুযায়ী অফিস শুরু হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। যারা এসেছেন, তারাও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলির মধ্য দিয়ে অফিস কার্যক্রম শুরু করেছেন। চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ততার বদলে অনেকটাই ঢিলেঢালা কার্যক্রমে যেন ঈদের আমেজ এখনো কাটেনি।

সকাল থেকেই সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কক্ষে দেখা যায় উৎসব-পরবর্তী উষ্ণ ও আনন্দময় পরিবেশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় কাটান। অনেককেই দীর্ঘ ছুটির পর কাজের পাশাপাশি ঈদের অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণের গল্প শেয়ার করতে দেখা গেছে।

প্রথম কর্মদিবসে সকাল ৯টা ১ মিনিটে সচিবালয়ে এসে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও যথাসময়ে সচিবালয়ের দপ্তরে আসেন। ঈদের পর প্রথম অফিসে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে। সহকর্মীদের সঙ্গে করেছেন কোলাকুলি। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সচিবালয়ের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। যেসব কক্ষে একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী বসেন, এমন কক্ষগুলোতে অনেকেই অনুপস্থিত রয়েছেন।

সেকশনগুলোতে অনেকে ঐচ্ছিক ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। কারণ, মঙ্গল ও বুধবার অফিস করার পর আবার টানা তিন দিনের ছুটি। তবে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই উপস্থিত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সচিবালয়ে মূলত স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে আগামী রবিবার থেকে। ঈদের ছুটির পর দুদিন অফিস খোলা থাকার পর আবার টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় অনেকেই এ দুদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও খুব কম। তাই ৬ নম্বর ভবনসহ অন্যান্য ভবনের লিফটের সামনে মানুষের তেমন ভিড় চোখে পড়েনি।

ঈদের অভিজ্ঞতার বিষয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবারকার ঈদ অন্যরকম ছিল। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোট দেওয়ার অধিকার পালন করতে পেরেছে এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে পেরেছে। সুতরাং তারা মুক্ত পরিবেশে এবং আনন্দময় পরিবেশে ঈদ পালন করেছে।’

এদিকে অফিস-আদালত খুললেও প্রাণচাঞ্চল্য ফেরেনি বন্দর নগরীতে। সরকার ঘোষিত টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি শেষে গতকাল থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। তবে সব জায়গায় ঈদের আমেজেই কেটেছে খোলার প্রথম দিন। ঈদের পর প্রথম দিনে অফিসগুলোতে উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। যারা উপস্থিত হয়েছেন, তারাও পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও এখনো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসেনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি যাওয়া মানুষজন কিছুটা ধীরেসুস্থে ফিরছেন নগরীতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটি শেষ হলেও আগামী বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস এবং পরবর্তী দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় অনেকে এর আগে শহরে ফিরছেন না। তাই আগামী সপ্তাহের শুরুতে ফিরে আসতে পারে ব্যস্ততম নগরীর স্বাভাবিক চিত্র।

নগরীর আগ্রাবাদের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইয়াসিন বাঙ্গালী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদ শেষে অফিস খুললেও কাটেনি ঈদের আমেজ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই এখনো শহরে ফেরেনি। সামনে স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষ করেই এরা কর্মস্থলে ফিরবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত