নিরাপত্তায়ই পুলিশের আনন্দ

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উৎসব ঘিরে সারা দেশের মানুষ যখন আনন্দে সমাগত থাকে তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন আনন্দে মেতে ওঠা মানুষদের নিরাপত্তায়। আর এ কারণে কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়ে ওঠে ঈদ আনন্দ।

ঈদ আনন্দে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা, কেউবা প্রিয়জনের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় থাকে, কেউ ব্যস্ত থাকে কেনাকাটায়, আবার কেউ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার নিয়ে বের হন ঘোরাফেরায়। উৎসবের লম্বা ছুটি উপভোগ করতে মানুষ যখন নানা পরিকল্পনায় ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে উৎসবের আমেজে থাকা জনগণের নিরাপত্তায় নির্ঘুম রাত-দিন কাটিয়েছেন হাজার হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় ঈদ উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। তারা ঈদের দিনও অন্যান্য দিনের মতোই দায়িত্ব পালন করেন।

বিশেষ করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের ঈদ উপভোগ করতে হয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে। পুলিশের ঈদ মানে নিজের আনন্দ ত্যাগ করে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যখন সবাই পরিবার নিয়ে ব্যস্ত, তখন তারা রাস্তায়, চেকপোস্টে ও থানায় দাঁড়িয়ে জনগণের নিরাপত্তায় দায়িত্বপালন করেন। আর তাদের কারণেই নিরাপদ হয়ে ওঠে আনন্দ-উৎসবের ঈদ আমেজ। সরেজমিনে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে গিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ পুলিশ সদস্য ছুটি পাননি। তাদের ঈদ কাটছে স্বজনহীন কর্মব্যস্ততায়। পুলিশ সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বড় কষ্টের জায়গা হলো পরিবার থেকে দূরে থাকা। অনেকেই বছরের পর বছর ঈদ করেন থানায়, ব্যারাকে কিংবা রাস্তায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। আর ভিডিও কলে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেই কাটে ঈদের আনন্দ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন বলেই দেশের জনগণ নির্বিঘেœ উৎসব উদযাপন করতে পারে।

গত শনিবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে জনগণের নিরাপত্তায় জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। জাতীয় ঈদগাহ দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ সদস্য বলেছেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ছুটি পাওয়া যায় না। তবে এতে কষ্টের কিছু নেই। দায়িত্ব পালনের মধ্যেই আমরা আনন্দ খুঁজে পাই। এখানে হাজার হাজার মানুষ ঈদের নামাজ পড়েছে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়াও আমাদের ইবাদত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল দায়িত্ব। সেবামূলক এ পেশায় যুক্ত থাকায় ঈদের ছুটি না পেলেও তাদের মধ্যে কোনো আক্ষেপ দেখা যায়নি।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মাঠে ছিলেন। মোট সদস্যের প্রায় ২০ শতাংশ ছুটি পেয়েছেন, বাকি ৮০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতি উৎসবেই মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামনে থেকে কাজ করেন পুলিশ সদস্যরা। সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা বিরামহীন দায়িত্ব পালন করেন। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বাড়ানো হয় নজরদারি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকার ৫০টি থানার আওতায় বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়। ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী যখন প্রায় খালি হয়ে যায়, তখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে র‌্যাব-পুলিশের অন্তত ১৬ হাজার সদস্য তৎপর ছিলেন।

ঈদের দিন দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। ওইদিন তারা জানান, প্রতিদিন তারা যা খেয়ে বের হন, ঈদের সকালেও তা খেয়েই বের হয়েছেন। সকাল ৬টায় এসে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন দায়িত্ব পালন করতে। আসার সময় গোসল করে এসেছিলেন, সুযোগ পেলে ঈদের জামাতে অংশ নেবেন বলে। কিন্তু রাস্তায় ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় সেই ভাগ্যও হয়নি। তারপরও মানুষের ঈদ উদযাপন নির্বিঘœ করতে দায়িত্ব পালন করায় সন্তুষ্টির ছাপ তাদের চোখেমুখে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, ঈদের দিন সকালে ডিউটি দিয়েই আমাদের দিন শুরু হয়। যে যেখানে দায়িত্বে থাকে, সেখানেই সুযোগ বুঝে ঈদের জামাতে অংশ নেয়, নামাজ শেষে আবার দায়িত্বে ফিরে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত