রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমীদ খান রাইয়ানসহ একই পরিবারের তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুরে দুই দফা জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভবানীপুরে প্রথম এবং বেলা ১২টায় দ্বিতীয় জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে রাইয়ান, তাঁর মা ও ভাগ্নেকে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি শায়িত করা হয়। এই তিন সদস্যকে হারিয়ে এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) ভোর ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাইয়ানের মরদেহ শনাক্ত করেন তাঁর স্বজন ও সহপাঠীরা। নিহত রাইয়ান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ২০২৫-২৬ সেশনের সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। গত বুধবার (২৫মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে রাইয়ানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। আজ এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, রাইয়ানের মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি রাইয়ানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
