বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র করতে এসে ২ শুটার গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

রাজধানীর পল্লবীতে থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে গ্রেপ্তারের পর গতকাল শুক্রবার মিরপুরে র‌্যাব-৪ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন কবির।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, লোপন ও কাল্লু বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে ঢাকায় এসেছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ মিরপুরের রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে লোপন এবং উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ি থেকে কাল্লুকে গ্রেপ্তার করে। লোপনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

কোম্পানি কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন কবির জানান, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া এ দুই শুটার ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। একপর্যায়ে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। তবে হাদি হত্যার পর সীমান্তে কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় অবৈধপথে দেশত্যাগ করতে ব্যর্থ হন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কিছুটা স্থিরতা ফিরলে তারা ঢাকায় ফিরে আসেন এবং বৈধপথে বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট ও ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু করেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুজন ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ভিডিও দেখে নিজেদের শনাক্ত এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেন। হত্যার কারণ হিসেবে তারা রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের কথা উল্লেখ করেন। এ হত্যাকাণ্ডে ছয়-সাতজন জড়িত বলেও জানা গেছে।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, লোপনের কাছ থেকে উদ্ধার করা রিভলবারের চেম্বারে ছয়টি গুলি থাকার কথা বলা হলেও পাওয়া গেছে মাত্র তিনটি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার সময় গোলাম কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি এবং আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে দিতে একটি ফাঁকা গুলি করেছিলেন।

কিলিং মিশনে কতজন অংশ নিয়েছিল জানতে চাইলে কোম্পানি কমান্ডার শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, সরাসরি গুলি করার জন্য ছিলেন তিনজন শুটার। এর মধ্যে জনি আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ (গতকাল) আমরা আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অস্ত্র দেওয়া এবং নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ভাগিনা মাসুম। অস্ত্র সরবরাহ ও সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল পাতা সোহেলের। নিহত কিবরিয়ার গতিবিধি নজরদারির কাজ করছিলেন সুজন। সার্বিকভাবে এ কিলিং মিশনে ছয় থেকে সাতজন জড়িত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আসামিদের স্বীকারোক্তি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার করা ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে বেশ জনপ্রিয় নেতা ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ছিল। তিনি পরবর্তী সময়ে পল্লবী থানা বিএনপির বড় কোনো পদে যেতে পারতেন। এ কারণে মশি ও তার সহযোগীরা নিয়ন্ত্রণ করা জুট ব্যবসা, চাঁদাবাজি, হাউজিং ও ফুটপাতের চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে কিবরিয়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এজন্যই তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

গত বছর ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২ বি-ব্লকের বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার দোকানে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পিস্তল দিয়ে বুকে ও পিঠে গুলি করে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে (৫০) হত্যা করে। পালানোর সময় স্থানীয় জনতার ওপরও গুলি চালায় তারা, যাতে একজন রিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে এক শুটারকে আটক করে জনতা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করে। পরে ১৮ নভেম্বর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল (৩০) এবং মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত