কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি নারীসহ প্রাণ গেল চারজনের

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৪ এএম

পঞ্চগড়ে আকস্মিক ঝড়ে গাছ ভেঙে ঘরে চাপা পড়ে চাকাতি বালা (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার চানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পৌরশহরসহ উপজেলা জুড়ে হাজারেরও বেশি ছোট-বড় গাছ উপড়ে গেছে। অসংখ্য বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ভুট্টা, মরিচ ক্ষেতসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় শুরু হয়। প্রচন্ড বাতাসে চাকাতি বালার বসতঘরের পাশে থাকা একটি বিশাল ‘সড়কজিয়া’ গাছ উপড়ে পড়ে। এতে ঘরটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চাকাতি বালা গাছের নিচে চাপা পড়েন। ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া, উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ঘাটিয়ারপাড়া এলাকায় ঝড়ের সময় বসতঘরের উপর পাশের চারতলা নির্মাণাধীন বাসার দেয়াল ধসে ময়নুল ইসলাম (৫০) ও তার স্ত্রী খুকুমনি (৩৮) আহত হয়েছেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা ও আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিক ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে সদর উপজেলার হাড়িভাসা, চাকলাহাট, মাগুড়া, ধাক্কামারা ইউনিয়ন এবং আটোয়ারী উপজেলার ঝলই শালশিরি, মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্তও বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়নি। মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।

নিহত বৃদ্ধার ছেলে হরেণ চন্দ্র বলেন, ‘মা ওই ঘরে একাই ছিলেন। ঝড়ের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে গাছটি পড়ার পর আমরাও ঘর থেকে বের হতে পারিনি। পরে ঝড় থামলে আমরা গিয়ে মাকে মৃত অবস্থায় পাই।’ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, ‘ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে। আমরা কিছু কিছু এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করছি।’

লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়িসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই দুর্যোগে ল-ভ- হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। শিলাবৃষ্টির আঘাতে বহু মানুষের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে কষ্ট নিয়ে জীবনযাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

গতকাল সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে উপড়েপড়া গাছপালা পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। ঘর হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা মাঠে বা পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ভুট্টা, তামাক, পেঁয়াজ, রসুন ও বাদাম ক্ষেত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ মাঠপর্যায়ে চলছে। আমরা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। সরকারি বরাদ্দ হাতে পেলেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

নীলফামারীতে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে স্মরণকালের সর্বোচ্চ শিলাবৃষ্টিতে কৃষিজমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও শিলার আঘাতে ঘরবাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি ঝড়ে উড়ে গেছে স্থাপনা। তবে বৃষ্টির পানির চেয়ে শিলার তোপে মাটিতে নুয়ে পড়েছে কৃষকের সবুজ ক্ষেত। ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজ তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে সমির বিশ্বাস (৪০) ও অপু বিশ্বাস (২২) নামে দুই কৃষক মারা গেছেন। সে সময় বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। গতকাল বেলা ১২টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সমির বিশ্বাস খড়িয়াবাড়িয়া গ্রামের সুশীল বিশ্বাসের ছেলে ও অপু বিশ্বাস একই গ্রামের প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, গতকাল সকাল থেকেই কৃষকরা পেঁয়াজ তোলার কাজ করছিলেন। বেলা ১২টার দিকে ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। ওই সময় আকস্মিকভাবে ফসলের মাঠে কয়েকটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন বলেন, বজ্রপাতে সমির বিশ্বাস ও অপু বিশ্বাস নামে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। মৃত অবস্থায় তাদের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। রনজিত মাস্টার নামে আরেকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

মাগুরার শ্রীপুরে পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে সুরুজ আলী (৩৫) নামে এক কৃষিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ আলী পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের গুলবার আলীর ছেলে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। শ্রীপুর থানার ওসি শাহিন মিয়া জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত