বাংলাদেশ-ভারত লড়াইয়ে সমতা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

রোনান সুলিভানকে নিরস্ত করলেই অর্ধেক কাজ সারা হয়ে যায় এটা জেনেই বাংলাদেশি স্ট্রাইকারকে বোতলবন্দি করে রাখলেন ভারতীয় ডিফেন্ডাররা। তার কাছে যাতে বল না পৌঁছায় সেই চেষ্টায় সফলও হলো ভারত। প্রতিপক্ষের রক্ষণে হুমকি হতে পারেননি পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ট্রাইকার। পাননি গোলের দেখা। তবে বদলি ডিফেন্ডার আব্দুল রিয়াদকে দিয়ে গোল করিয়ে ঠিকই অবদান রাখেন। রিয়াদের সেই গোলে বাংলাদেশ মাঠ ছাড়ে ১-১ সমতায়। তাতে গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তাই ১ এপ্রিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে সেমিফাইনালেই দিতে হবে নেপাল পরীক্ষা। যাদের হারিয়ে গত আসরে শিরোপা জেতা, সেই নেপালকে এড়াতে পারলে বাংলাদেশ পেত ভুটানের মতো সহজ প্রতিপক্ষ। ড্রয়ে ভারতের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। গোল গড়ে এগিয়ে থাকায় তারা হয়েছে গ্রুপ সেরা। একই দিনে ভারতীয়রা মুখোমুখি হবে ভুটানের।

মালে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি শুরু থেকেই ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের দখলে। নিজ দেশের তরুণ ফুটবলারদের সমর্থন দিতে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি জমা হন গ্যালারিতে। তাতে উজ্জীবিত হয়ে শুরুতে বাংলাদেশ খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। গোলের বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করেছিলেন তারা। তবে ভারত ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে যায় ১৭ মিনিটে। প্রথম কর্নারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতকে এগিয়ে নেন বিশাল যাদব। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঝলক দেখান রোনান সুলিভান ও আশিকুর রহমানের চোটে মাঠে নামা বদলি ডিফেন্ডার রিয়াদ। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ কর্নার দুই প্রান্ত থেকে নিচ্ছিলেন নুরুল হুদা ফয়সাল ও মোর্শেদ আলী। যোগ করা সময়ে ফয়সাল গিয়েছিলেন কর্নার নিতে। রোনান তার কাছ থেকে বল নিয়ে কর্নারটা নেন। যা ভারতীয় গোলকিপার ও রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে খুঁজে নেয় রিয়াদের পা। চলন্ত ভলিতে নিখুঁত ভলিতে সমতা আনেন রিয়াদ। এই গোলের কিছুক্ষণ আগেই ডিফেন্ডার আশিকুর রহমানের বদলি হিসেবে মাঠে এসেছিলেন তিনি।

এর আগে শুরুর পাঁচ মিনিটে দুটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। প্রথমটি রোনান সুলিভানের ভলি ব্লক হয় জটলায়। পরেরটি নুরুল হুদা ফয়সালের প্রচেষ্টা রুখে দেন ভারত কিপার। ১৩ মিনিটে মোর্শেদের কর্নারে হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে হেড করে গোল করতে পারেননি আশিকুর রহমান। এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। ১৭ মিনিটে একেবারে ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বাংলাদেশ। ওমাং দোদুমের কর্নার থেকে হেড করে গোল করেন বিশাল যাদব।

পিছিয়ে পড়লেও আশা ছাড়েনি বাংলাদেশ। ম্যাচে ফিরতে জোর চেষ্টা চালিয়েছে তারা। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ সব দিক থেকেই প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তাদের রুখতে একটু বেশিই শরীর নির্ভর ফুটবল খেলতে দেখা গেছে ভারতীয়দের। মালদ্বীপের রেফারিকে তাই বারবার বের করতে হয়েছে কার্ড। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ বলেই মাঠ ও ডাগআউটে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কোচ মার্ক কক্স ও ভারতের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দীকে লালকার্ড দেখতে হয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই বাংলাদেশ সমতায় ফেরে রোনান-রিয়াদ সমঝোতায়।

বিরতির পর বাংলাদেশের খেলায় আগের গতি ছিল না। একটু ক্লান্ত মনে হয়েছে দলকে। পরিবর্তনগুলোও ঠিকঠাক কাজে লাগেনি সেভাবে। আর ভারতও গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা করেনি। ফলে প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধ ছিল অনেকটাই ম্যাড়মেড়ে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে অবশ্য গোল পেতে পারত ভারত। তবে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দোদুমের ফ্রি-কিক ব্লক করেন বাংলাদেশ ডিফেন্ডার কামাল মৃধা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ফ্রি-কিকে প্রথম এবং হেডে দ্বিতীয় গোল করে সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন রোনান সুলিভান। এই ম্যাচেও তাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল। পুরোটা সময় ভারতীয় রক্ষণে ছোটাছুটি করে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন ঠিক। তবে গোলের চেষ্টা করার মতো বলের জোগান পুরো ম্যাচেই পাননি। মোর্শেদ, ফয়সাল, মানিকরা রোনানকে বলের জোগান দিতে পারেননি, নিজেরাও গোলের চেষ্টায় হয়েছেন ব্যর্থ। তাই কাক্সিক্ষত জয়টা ছোঁয়া হলো না। এখন তাদের ভাবতে হবে নেপালকে নিয়ে। যারা তিন ম্যাচে দুটিতে জিতে ও একটিতে ড্র করে হয়েছে এ গ্রুপ সেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত