ময়মনসিংহে ১২ দিনে হাম আক্রান্ত ৫ শিশুর মৃত্যু

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শিশুদের মধ্যে এই ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবক ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১২ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বেলা ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে ৬৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ১০৬ জন শিশু হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ মার্চ গৌরীপুরের চার মাস বয়সী ওয়াজকুরুনী এবং ২৬ মার্চ ময়মনসিংহ নগরের তনুসা (৩) ও সামিয়া (২), ২৮ মার্চ শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের সাত মাস বয়সী শিশু লিয়ন, একই দিন রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ছয় মাস বয়সী নুরুন্নবী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। 

গৌরীপুর থেকে আসা শিশু তানিয়া আক্তারের মা বলেন, দুই দিন আগে মেয়ের শরীরে হঠাৎ জ্বর ও লাল দানা দেখা দেয়। স্থানীয় চিকিৎসক দেখানোর পর দ্রুত এখানে নিয়ে আসি। কিন্তু এত রোগী দেখে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। মেয়েটা ঠিকমতো খেতে পারছে না।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দেয়, যা জীবনঝুঁকি তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করছে এবং টিকাদানে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, অধিকাংশ শিশু জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হচ্ছে এবং ছোট শিশুরা দ্রুত জটিলতায় পড়ছে। শিশুদের জ্বর বা শরীরে লাল দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২৪ মার্চ থেকে তিনটি পৃথক মেডিকেল দল গঠন করে শিশু ওয়ার্ডে ১০ শয্যাবিশিষ্ট তিনটি ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ এত বেশি যে এসব কক্ষেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম জানান, আগে এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়নি। রোগীর চাপ সামলাতে পৃথক কর্নার চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইসোলেশন ওয়ার্ড সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে ময়মনসিংহ ছাড়াও নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুর থেকে আসা শিশুদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত