কালিয়াকৈরে জব্দ ৯ ঘোড়া নিয়ে তোলপাড়

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:২২ এএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জব্দকৃত ৯টি ঘোড়া বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে গোপনে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হলে বেকায়দায় পড়ে গতকাল রবিবার বিক্রীত ঘোড়াগুলো ফেরত আনার তোড়জোড় চালাচ্ছে প্রশাসন।

জানা গেছে, গাজীপুরে গত বছর অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করেন কিছু অসাধু মাংস ব্যবসায়ী। প্রথমে তারা ঘোড়ার মাংস প্রতিকেজি ২০০ টাকায় বিক্রি করলেও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে দাম বাড়িয়ে প্রতিকেজি ৪০০ টাকা কখনো আরও বেশি টাকায় ঘোড়ার মাংস বিক্রি করতেন ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর বেশি লাভের আশায় ঘোড়ার মাংসকে বিভিন্ন খাবার হোটেলসহ ক্রেতাদের কাছে গরুর মাংস বলে চালিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কয়েক মাস বাণিজ্যিকভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করার পর দৃষ্টিগোচর হলে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অভিযান চালিয়ে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রি করা বন্ধের নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গত ১৭ মার্চ ভোরে এই ইউনিয়নের খলিশাজানি এলাকার জঙ্গলে ঘোড়া জবাইয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেখান থেকে ট্রাকভর্তি ৯টি ঘোড়াসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো কালিয়াকৈর থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। কিন্তু ৯/১০ দিন ঘোড়াগুলোর খাবার সংগ্রহ ও ঘোড়ার বর্জ্যে নষ্ট হতে থাকে থানার পরিবেশ। এ নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে থানা পুলিশ। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোড়াগুলো বিক্রির প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেয়। কিন্তু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা ও থানা পুলিশ বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই শনিবার জব্দকৃত ৯টি ঘোড়া মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জব্দকৃত ঘোড়াগুলো নামমাত্র মূল্যে বিক্রি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনাসহ তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসআই জামিল জব্দকৃত ওই ঘোড়া বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দায়িত্বে ঘোড়াগুলো একজনের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার কাছে দিয়েছেন সেটা জানা নেই। তবে সেগুলো নাকি আবার আনা হবে। আগামীকাল  (আজ সোমবার) সেগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, থানা ঘোড়াগুলোর খাবার দিতে পারছিল না, তাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ঘোড়ার ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ঘোড়াগুলো বিক্রির বিষয়টি ভুল তথ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলো একজনের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, ওই ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি। একজনের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো ফেরত আনা হচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত