৩ গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনো বিদ্যুৎবিহীন

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

সরকারি কাগজে ২০২১ সালেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা পায়নি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার। দীর্ঘ চার বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের অপেক্ষায় থাকা এসব মানুষ কেরোসিনের ল্যাম্প, হারিকেন ও সীমিত ক্ষমতার সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছেন। এতে শিশুদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী গ্রামের একাংশ, উত্তরচরপাড়া গ্রামের একাংশ এবং ইসলামপুর গ্রামের অন্তত শতাধিক পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তারা বহুবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছু লোক কয়েকজনের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছেন। কিন্তু কয়েকটি খুঁটি বসানো হলেও এখনো বিদ্যুতের তার টানা হয়নি।

পশ্চিম মধুখালী গ্রামের টাওয়ার রোড এলাকার বাসিন্দা আবু ইউসুফ আকন বলেন, তাদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ১০টি পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর জন্য তাদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বছর তিনেক আগে তিনটি খুঁটি বসানো হলেও আজ পর্যন্ত তার টানা হয়নি। পুরো গ্রামে অন্তত ৫০টি পরিবার বিদ্যুৎ পায়নি।

আরামগঞ্জ গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়াম জানায়, এখনো তাদের কেরোসিনের ল্যাম্প ও হারিকেন জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। রাতে আলো-স্বল্পতার কারণে সমস্যায় পড়তে হয়। কারও কারও বাড়িতে সোলার প্যানেল থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, ২০২১ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও কীভাবে এখনো শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে। তাদের দাবি, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ কলাপাড়ায় হলেও স্থানীয় অনেক মানুষ এখনো সেই সুবিধা পাচ্ছেন না।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল বলেন, ‘এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো বিষয়টির সুরাহা হয়নি।’

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী জানান, তিনটি গ্রামের কিছু পরিবার ছাড়াও আশপাশের বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছাতে নতুন করে প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে হবে। ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করতে পারব।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, এই তিন গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে উপজেলা ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত