জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গতকাল সোমবার সংসদে আলোচনা করেছেন সংসদ সদস্যরা। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ সময় খোদ একজন সংসদ সদস্য নিজেই কয়েকটি পেট্রোলপাম্প ঘুরে নিজের গাড়ির জন্য তেল পাননি বলে সংসদকে জানান। এদিকে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বক্তব্য শুরু করলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। পরে ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী সংসদে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দুই মিনিটের জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিসের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে যদিও জ্বালানি তেল নিয়ে কথা উঠেছে যে, দেশে কোনো সংকট নেই। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। আমি নিজে আজকে পাম্পে পাম্পে ঘুরেও আমার গাড়ির জন্য তেল পাইনি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তাহলে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সহজেই অনুমেয়।’
তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার পেট্রোলপাম্পগুলোতেও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল না থাকলেও বাইরে বোতলে করে ঠিকই বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। মোটরসাইকেলের চালকরা বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে তেল কিনছেন। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ সময় জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহ ঘাটতি দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংসদ সদস্যরা।
পরে সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। বরং আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করেছি। গত বছর এ সময় যে পরিমাণে জ্বালানির তেল সরবরাহ হয়েছিল, এ বছর তার চেয়ে বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছি।’
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দেশে কোনোভাবেই “মব কালচার” চলতে দেওয়া হবে না।’ পাশাপাশি গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।
সম্পূরক প্রশ্নে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা অতীতের বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ‘মব কালচার’-এর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় ২৫০-৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি এ প্রবণতা বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময় হয়েছে, তবে ইতিমধ্যে “মব কালচার” বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ধরনের মব কালচার থাকতে দেওয়া হবে না।’ এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সব ঘটনাকে একভাবে ‘মব’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয় কিছু ঘটনা সংঘটিত অপরাধ, যেগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তা অবরোধ বা সহিংসতার মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি উত্থাপন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম বা জনসমাবেশের মাধ্যমে মতপ্রকাশের সুযোগ রয়েছে এবং সরকার তা নিশ্চিত করবে।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক মামলা নিষ্পত্তির আশ^াস : প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘আবেদনভিত্তিক যাচাই-বাছাই করে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী এসব মামলা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালে ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশে ব্যাপকহারে গায়েবি মামলা, মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা, গুম, খুন ও অপহরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়ম-অবিচারের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য সম্পৃক্ত ছিলেন এ বিষয়টি সবারই জানা।
নির্দিষ্ট মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ সদস্যদের আলাদা নোটিস দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে আমি সেই নির্দিষ্ট মামলার বিস্তারিত অগ্রগতি জানাতে পারব।’
তিনি স্পষ্ট করেন, হত্যা, অপহরণ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলো প্রত্যাহারের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জেলাপর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির জন্য নির্দিষ্ট টার্মস অব রেফারেন্স নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুলিশের অর্ধেক গাড়ি পুড়ে গেছে জুলাই আন্দোলনে : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সারা দেশে পুলিশের অর্ধেকের বেশি গাড়ি পুড়ে গেছে বা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে বলে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ও পুলিশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক লজিস্টিক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে যানবাহনের। ওইসময় পুলিশের অর্ধেকের বেশি গাড়ি পুড়ে গেছে অথবা পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’
‘পুলিশ হত্যার বিচার’ যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে : সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অভ্যুত্থানকারীদের ওপর, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা করেছে তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে; কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানেই ফয়সালা হয়ে গেছে।’
এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যাদেশ জারি করার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
‘ম্যানেজ করে নাও’ এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, পুলিশের তৃণমূলের সদস্যদের যখন তদন্ত করতে পাঠানো হয়, কোনো খরচ থানা থেকে দেওয়া হয় না। যেটা দেওয়া হয়, সেটা খুবই অপ্রতুল। এজন্য পুলিশের একটা সংস্কৃতি প্রচলিত রয়েছে, ‘ম্যানেজ করে নাও’। এই ম্যানেজ করতে গিয়ে পুলিশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে যে বাজেট দেওয়া হয়, তা খরচের চেয়ে কম হওয়ার কারণে ব্যবসায়ী বা এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত মানুষের কাছ থেকে অর্থ ওঠাতে হয়। হাসনাত তার প্রশ্নে জানতে চান, পুলিশকে তাদের রুটিন দায়িত্বগুলো পালনে যথাযথ বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না?
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি কর্মক্ষম ও দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্য যথাযথ বাজেট দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগামী অধিবেশনে প্রস্তাব রাখবেন। এটা সত্য যে পুলিশের যে পরিমাণ রিসোর্স বা বাজেট দরকার, দেশের অর্থনীতি হয়তো তা দিতে পুরোপুরি সক্ষম নয়। তবে সরকার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশের ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, যাতে পুলিশ ‘ম্যানেজ করার কালচার’ থেকে বেরিয়ে আসে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদে তোপের মুখে শামা ওবায়েদ : সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।’ এরপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এর প্রতিবাদ করেন এবং তাদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় স্পিকার প্রতিমন্ত্রীকে তার বক্তব্য শেষ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের। পরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।’
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কর্মরত প্রবাসীদের।’ তিনি সংসদকে জানান, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন পরিবহনমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াতের সংসদ সদস্য : সন্ধ্যায় অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ঈদযাত্রা নিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম বলেন, আর কত লোক মারা গেলে তিনি (সড়ক পরিবহনমন্ত্রী) অস্বস্তিবোধ করবেন? তিনি বলেন, গত রবিবার সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ঈদযাত্রা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ঈদযাত্রায় স্বস্তি ছিল।
বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ঈদযাত্রার স্বস্তিটা আপনাদের সামনে বলতে চাই। বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় ১৭০ জন মারা গেছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৭০ জন। এরপর আমরা দেখলাম, দৌলতদিয়ায় একটা আস্ত বাস পানির নিচে চলে গেল। আমাদের পরিবহনমন্ত্রী বললেন, স্বস্তির যাত্রা ছিল। আমার প্রশ্ন আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন?’
গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে গুম-খুনের ‘আয়নাঘর’কে সমর্থন করা : রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, ‘গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে গুম-খুনের আয়নাঘরকে সমর্থন করা।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জনগণের আকাক্সক্ষা ও গণভোটকে ইগনোর (উপেক্ষা) করা হলে বাউফল-পটুয়াখালীসহ গোটা বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠবে।’ ডা. মাসুদ বলেন, ‘আজকে সংবিধানের লাইন ধরে ধরে যদি আমাদের চলতে হতো, তাহলে আমাদের নেতাদের ফাঁসির মঞ্চে যেতে হতো না। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তবে ৭২-এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা ছিল না। আমি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা ছিল।’