বিলে ডুবে একে একে মৃত্যু ৫ শিশুর

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নে মরা পদ্মা বিলে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে তিন পরিবারের পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই পরিবারের আপন দুই বোন করে চারজন, অপরজন একজন ফুফাতো বোন। শুক্রবার দুপুরে দেবীনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকার মরা পদ্মা বিলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। রাতেই ওই পাঁচ শিশুকে চর চাকলা গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।

নিহত পাঁচ শিশু হলো চর চাকলা গ্রামের নিজাউদ্দিনের দুই মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১১) ও সুরাইয়া খাতুন (৯), মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১১) ও আরিবা খাতুন (৮) এবং শরিফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা খাতুন (১১)।

দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দুপুরে পাঁচ শিশু একসঙ্গে মরা পদ্মা বিলে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে এক শিশু পানির গভীরে ডুবে যেতে লাগলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে  পাঁচ শিশুই পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি দূর থেকে স্থানীয় একজন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে বিল থেকে পাঁচজনকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

একসঙ্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যুতে পুরো চর চাকলা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাঁচ শিশুর তিন পরিবারের চলছে শোকের মাতম। শিশুদের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা আহাজারি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শুকরদী বলেন, ‘মেয়েগুলো একসঙ্গে গোসল করছিল। এ সময় একজন ডুবে গেলে তাকে বাঁচতে গিয়ে এক এক করে পাঁচ শিশু ডুবে যায়। উদ্ধারের সময় দেখা যায় শিশুরা বাঁচতে গিয়ে একে অপরের হাত ধরে রেখেছিল’। তিনি বলেন, ‘তারা হাত ধরে খেলতে খেলতে গোসলে নেমেছিল। মারাও গেল একসঙ্গে হাতে হাতধরেই।’

নিহত সুমাইয়া ও আরিবার বাড়ির সামনে শোকাচ্ছন্ন এক বাসিন্দা সুলতান আলী বলেন, ‘এর আগে এলাকার বিল নদীতে কখনো একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু হয়নি। দু-একজনের ডুবে যাওয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু এভাবে পাঁচ শিশুর একসঙ্গে চলে যাওয়া আমরা কেউ কোনো দিন দেখিনি। আমাদের মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সকালে শরীফা তাদের বাড়ির পাশের মসজিদ পরিষ্কারের ঝাড়ু দিয়ে দুপুরে মাংস ভাত খাবে বলে তার মাকে মাংস রান্না করতে বলেছিল। মাও মাংস রান্না করেছিল। কিন্তু দুপুরের খাওয়া তার আর হলো না।’

স্থানীয় বাবুল আকতার বলেন, ‘প্রবাসী মাসুদের মাত্র দুইটি কন্যাসন্তান। দুটাই চলে গেল। শরিফুল ইসলামের ৫ ছেলে ও এক মেয়ে। আগেই দুই ছেলে মারা গেছে। একমাত্র মেয়েটিও চলে গেল। নাজিমউদ্দীনের তিন মেয়ের দুই মেয়ে গেল। থাকল মাত্র একটি।’ স্থানীয়রা জানায়, তারা পাঁচজনই সাঁতার জানত না।

ঘটনার পর খবর পেয়ে বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, পাঁচ শিশুর ডুবে মারা যাওয়ার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, সন্ধ্যা ৭টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর একসঙ্গে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে চর চাকলা গোরস্তানে। নামাজে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত