জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী অধ্যাপক দিলারা হাফিজের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ভোলা-৩ আসনের লোকজনও অংশ নেন। জানাজা শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে দিলারা হাফিজকে সমাহিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ ক্বারি মুফতি মো. আবু রায়হান জানাজা পরিচালনা করেন। জানাজার আগে দিলারা হাফিজের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তার ৫৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে দিলারা হাফিজের অবদান তুলে ধরেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দেন।
জানাজা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি, বিএনপি নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তারা দিলারা হাফিজের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মরহুমার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দিলারা হাফিজ। গত রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার লাশ দেশে আনা হয়।
অধ্যাপক দিলারা হাফিজের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত দিলারা হাফিজ ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
