বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ইতালির জন্য সময়টা যেন থমকে গেছে। জেনিৎসায় মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই নিয়ে টানা তিনবার ফুটবল মহাযজ্ঞে অনুপস্থিত থাকতে হচ্ছে আজজুরিদের। ম্যাচ শেষে কান্নাসিক্ত কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইতালির কোচ জেন্নারো গাত্তুসো।
বাছাইপর্বের এই প্লে-অফ ফাইনালে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল ইতালিই। কিন্তু ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর বসনিয়া ম্যাচে ফেরে। অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে কপাল পোড়ে ইতালিয়ানদের। গাত্তুসো বলেন, ‘আজ ছেলেরা এমন হারের যোগ্য ছিল না। ১০ জন নিয়েও আমরা তিনটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলাম। ফুটবলের এই আঘাত হজম করা খুবই কঠিন। পুরো ইতালির কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।’
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে বক্সের ঠিক বাইরে তারিক মুহারেমেভিচের একটি ফাউলের বিপরীতে রেফারি কেবল হলুদ কার্ড দেখালে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইতালি শিবির। তবে ম্যাচ শেষে গাত্তুসো রেফারিকে দায় না দিয়ে বলেন, ‘আমি রেফারি নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আজ আমাদের জন্য দিনটি ছিল অন্যায্য। আমি আমার ছেলেদের জন্য গর্বিত, তারা হৃদয় দিয়ে খেলেছে।’
লুচিয়ানো স্পালেত্তির বিদায়ের পর দায়িত্ব নেওয়া গাত্তুসোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। যদিও ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা তাকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। গ্রাভিনা বলেন, ‘আমি রিনো গাত্তুসোকে অভিনন্দন জানাতে চাই। তিনি একজন দুর্দান্ত কোচ এবং আমি তাকে এই দলের হাল ধরে রাখতে বলেছি।’
তবে টানা তিনবার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় গ্রাভিনার নিজের ওপরও পদত্যাগের চাপ বাড়ছে। আগামী সপ্তাহে ফেডারেল কাউন্সিলের সভায় ইতালিয়ান ফুটবলের এই মহাবিপর্যয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করা হবে। ইতালির বিদায়ের দিনে অন্য প্রান্তে বইছে আনন্দের হাওয়া। কসোভো এবং বলিভিয়ার মতো দলগুলো যখন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন ইতালির মতো এক সময়ের চ্যাম্পিয়নদের মাঠের বাইরে বসে থাকা ফুটবল বিশ্বের জন্য এক বড় ধাক্কা।
মেসির জাদুকরী ফুটবলে জাম্বিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাল আর্জেন্টিনা
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি!