হামের কারণ কী?

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ এএম

দেশের হাসপাতালগুলোয় হামের শিকার হয়ে ভর্তি শত শত শিশু। বিশেষ করে, কয়েকটি জেলা হাসপাতালে শিশু রোগীদের জায়গা দিতে পারছে না। হাম চিকিৎসার টিকা অপ্রতুলতার কারণ তো আছেই, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিকিৎসার অন্যান্য উপকরণ-উপাদানও। ফলে হাম পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।  ভাইরাসজনিত এই রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন মাথাচাড়া দিচ্ছে। যেসব শিশু নিউমোনিয়া, চিকেনপক্স, ডায়রিয়া বা জন্মগত হৃদরোগে ভুগছে, যাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগাক্রান্ত, তাদের জন্য এই সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। বিশেষ করে,  টিকা না পাওয়া ৩ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশুর অবস্থা বেশি শোচনীয়। রোগীর চাপে অনেক হাসপাতালের শয্যা ছাড়িয়ে বারান্দা-মেঝেতে ঠাঁই হচ্ছে অসুস্থ শিশুর। অন্যদিকে এক ওয়ার্ডে বিভিন্ন সংক্রামক রোগীর অবস্থান চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। গত তিন মাসে হামে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

হাম সংক্রামক ব্যাধি। শূন্য থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এখন হাম পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চোখে ধরা পড়েছে, পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খবর হওয়ার পর। হাসপাতালগুলোতে নিয়োজিত চিকিৎসকদের অবহেলা ও অসচেতনতার দরুন তা শীর্ষ  পর্যায়ে না পৌঁছালেও, সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সময় গড়িয়ে যায়। সংক্রমিত শিশুর পাশে যেসব শিশুরোগী থাকে, তারাও ধীরে ধীরে সংক্রমণের শিকার হয়। এভাবেই বেড়ে চলেছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা রোগী। পরিস্থিতি ভয়াবহ না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টনক নড়ে না। যখন জানা গেল, সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে হামের টিকা নেই, তখনই ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। টিকা সংগ্রহ করা হবে ইউনিসেফের কাছে থেকে। এই প্রতিষ্ঠানটি কবে নাগাদ টিকা সরবরাহ করতে পারবে, তা কারও জানা নেই। ততদিনে আরও কত শিশুর জীবন চলে যাবে, তা কেউ বলতে পারবে না।

আমাদের স্বাস্থ্যসেবা কতটা ঝুঁকিতে পড়েছে, সেটা সরকার ভালোভাবে জানে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু ব্যবস্থাপনা যে অদক্ষ ও নিম্নমানের, চিকিৎসকদের নৈতিকতা যে অমানবিকতায় পূর্ণ, তা মনে রাখতে হবে। চিকিৎসাকে ব্যবসার মতো ব্যবহার করার মানে নেই। সেখানে মানবতার সেবাই প্রধান। কিন্তু আমাদের চিকিৎসকদের মধ্যে তা নেই বললেই চলে। সেবা যদি কিনতে হয় রোগীকে, তাহলে সেই রোগীর কেনার সামর্থ্যরে মধ্যে নামাতে হবে ব্যয়। এটা বলা সহজ, কিন্তু পাকাপোক্ত করা কঠিন বলে আমরা মনে করি। স্বাস্থ্যসেবা কখনো, কোনোভাবেই পণ্যের মতো তোলা উচিত নয়। অথচ বাস্তবে সেটাই হচ্ছে। ঢাকার বড় ও বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান ভালো। কারণ যারা সেসব হাসপাতালে সেবার জন্য যান, তাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে। যাদের নেই, তারা সেবা পান না বলেই চলে। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোর ডাক্তাররা বেসরকারি হাসপাতালের সেবা কিনতে উৎসাহিত করেন। কখনো কখনো প্ররোচিত করেন। আবার ঢাকার বাইরের জেলা স্তরের হাসপাতালগুলোতে, চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব এতটাই প্রকট যে, তা সরকারও স্বীকার করবে। ওই সব হাসপাতালকে সব ধরনের চিকিৎসার উপযুক্ত করা দরকার। স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বাড়ানো এর সমাধান নয়, তার পরিপূর্ণ ব্যবহার ও দক্ষতা প্রয়োগের মানসিকতা থাকতে হবে। ডাক্তারদের প্রতিনিয়ত সর্বশেষ গবেষণা নিয়ে পড়াশোনা ও তার ব্যবহারে নিয়ত কাজ করতে হবে। নতুন প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের সেবার জমিনে নিয়োগ করতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার হাসপাতাল ও চিকিৎসক রাখা সরকারের সেবার চিন্তাকে উজ্জীবিত করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত