পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবন্ত গাছ হলো ‘ম্যাথুসেলাহ’। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের একটি অঞ্চলে অবস্থিত। এই গাছের বয়স প্রায় ৪,৮০০ বছর। আবার চিলির একদল উদ্ভিদবিজ্ঞানীর দাবি, তারা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো গাছের খোঁজ পেয়েছেন। জানা গেছে, বৃক্ষটির বয়স পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি। এ কারণে বৃক্ষটি ‘গ্রেট গ্র্যান্ডফাদার’ নামে পরিচিত। এটি একটি ব্রিস্টলকোন পাইন গাছ, যা এমন কঠিন পরিবেশে বেড়ে উঠেছে, যেখানে অন্য কোনো গাছ টিকতে পারে না। বিশ্বের কয়েকটি দেশে হাজার, এমনকি লাখ বছরের পুরনো গাছ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা শত শত বছর ধরে গাছ নিয়ে গবেষণা করছেন। পরীক্ষা করে তারা বয়স, জলবায়ু, বন্যা, পোকামাকড়ের ক্ষতি এবং এমনকি দাবানল হয়েছিল কিনা, তা বলতে পারেন। বৃক্ষের বয়স মূলত কাণ্ড কেটে ভেতরের বার্ষিক বলয় (Dendrochronology) গুনে নির্ণয় করা হয়, যাকে ডেনড্রোক্রনোলজি (উবহফৎড়পযৎড়হড়ষড়মু) বলে। বিজ্ঞানীরা গাছের বার্ষিক বৃদ্ধি বলয় ব্যবহার করে সেখানকার জলবায়ু কেমন ছিল এবং কী ঘটেছিল, তা জানতে পারেন। পান্ডো, যা কাঁপন অ্যাস্পেন গাছের একটি কলোনি হলো, জ্ঞাত প্রাচীনতম ক্লোনাল গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, এর বয়স ১৬,০০০ থেকে ৮০,০০০ বছর। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের সব গাছে বলয় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। ব্রিস্টলকোন পাইন সবচেয়ে পুরনো গাছগুলোর জোগান দেয়, যা ৫,০০০ বছর পুরনো। ফলে আদি বৃক্ষের প্রকৃত বয়স নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।