বিষাক্ত বর্জ্যে মরছে মাছ, কমছে ফসল

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২১ এএম

দিনে স্বাভাবিক, রাতে নীরব দূষণএভাবেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার খাদুন এলাকায় রনি নিট অ্যান্ড কম্পোজিট নামে একটি ডাইং কারখানার চলছে ‘বিষ ঢালার’ কার্যক্রম। আর সে বিষেই মরছে খামারের মাছ, নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। এতে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। এলাকার মানুষ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রনি নিট ডাইং নামের কারখানাটি গভীর রাতে অপরিশোধিত বর্জ্যরে পানি ছেড়ে দিচ্ছে পার্শ্ববর্তী এবি সোয়েটার নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার মাছের খামারসহ আশপাশের এলাকার পুকুর ও রাস্তাঘাটে। আর ভোর হলেই সেই পানির প্রভাবে দেখা যায় পুকুরে ভেসে ওঠে মরা মাছ, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র পচা গন্ধ। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ও এবি সোয়েটার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ আলী ভুইয়া বাদী হয়ে তারাব পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বরাবর অভিযোগ দিলেও বন্ধ হয়নি পানি ফেলা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, খাদুন এলাকার রনি নিট কম্পোজিট ডাইং কারখানার বর্জ্য আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে খালে ফেলা হতো। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীতকরণের কাজের জন্য খাল ভরাট করে ফেলা হয়। এ কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ রাতের আঁধারে এবি সোয়েটারের মালিকানাধীন জমিতে অপরিশোধিত ডাইংয়ের বর্জ্যরে পানি ফেলছে। এতে এবি সোয়েটার কারখানার ভেতরে থাকা খামারের প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে ওঠে।

কারখানার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ডোবার পানি স্বাভাবিক নেই, রঙ কালচে-লালচে, পানির ওপর ভাসছে ফেনা, চারপাশে অসহনীয় দুর্গন্ধ। এতে আশপাশের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। কমছে উৎপাদন। এছাড়া পানির পচা দুর্গন্ধে আশপাশের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। রনি নিট অ্যান্ড ডাইং কম্পোজিট কারখানার এসব পচা পানির কারণে রূপসী, দক্ষিণ রূপসী বরাবো খাদুনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এতে খোস-পাঁচড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া, রনি নিট অ্যান্ড কম্পোজিট কারখানার পচা পানি এবি সোয়েটার কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতার কারণে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকে এবি সোয়েটার পোশাক কারখানার কার্যক্রম। এতে রপ্তানি বন্ধ হয়ে এবি সোয়েটার কারখানার প্রায় ১০ হাজার ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এবি সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা বলেন, রনি নিট অ্যান্ড কম্পোজিট কারখানার পচা পানি আমাদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করলে আমাদের কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আমরা ঈদের আগে বকেয়া বেতন পাইনি।

এ বিষয়ে এবি সোয়েটার কারখানার মানব সম্পদ বিভাগের হুমাউনুর রহমান বলেন, এবি সোয়েটার কারখানার ভেতরে পচা পানি প্রবেশ করে টানা সাত দিন আমাদের পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হই। আমরা এ ব্যাপারে বরাবর অভিযোগ দিলেও রনি ডাইং কারখানা কর্তৃপক্ষ পানি ফেলা বন্ধ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে এবি সোয়েটার কারখানা থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত