সাগরিকাদের সামনে চীনের প্রাচীর

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৭ এএম

স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা মুঠোটা না ফসকালে আজ বাড়তি একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চীনের মুখোমুখি হতো।

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সাগরিকার জাদুতে দুই গোলের লিড নেওয়ার পরও ৩-২ হারের হতাশায় ডুবতে হয়েছিল। সেই হারের তিনদিন পর আজ বাংলাদেশকে দিতে হবে চীন পরীক্ষা। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের অন্যতম ফেভারিটদের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে শুধুই লড়াকু ফুটবল খেলা। জয় কিংবা পয়েন্ট অর্জনের আশাটা একটু বাড়াবাড়িই।

এই আসরে চীন একবারের চ্যাম্পিয়ন। তবে ১২ আসরে সবচেয়ে বেশি ৯ বার সেমিফাইনাল খেলা দল তারা। ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতা চীন অবশ্য শেষ দুই আসরে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। তারপরও বাংলাদেশের চেয়ে ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে তারা। ২০০২ সালে শুরু হওয়া এই আসরে নিয়মিত খেলেছে চীন। বাংলাদেশ প্রথমবার মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে অভিযান শুরু করেছে তারা। অন্যদিকে দারুণ শুরুর সুযোগ ডিফেন্ডারদের ভুলে নষ্ট হওয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা আক্ষরিক অর্থে নেই বাংলাদেশের। এ গ্রুপে চীন ও ভিয়েতনামে শক্তি-সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে বলেই দুই ম্যাচে হার বাংলাদেশের সম্ভাব্য ফল। তারপরও থাইল্যান্ড ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে চীন চ্যালেঞ্জ নিতে চান বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা। থাইল্যান্ড ম্যাচে নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন অর্পিতা বিশ্বাস। এই মিডফিল্ডার জানেন, অন্তত সেরা তৃতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে এই দুই ম্যাচে অভাবনীয় কিছু করতে হবে তাদের।

প্রথম ম্যাচ ডে শেষে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। ভিয়েতনাম তাদের নিচে। এই অবস্থা ধরে রাখতে চীনের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে খেলতে হবে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। স্বস্তির ব্যাপার প্রথম ম্যাচে সেভাবে কোনো চোট সমস্যা নেই বাংলাদেশ শিবিরে। সেই ম্যাচের পরদিন ছিল রিকভারি সেশন। গতকাল অবশ্য পুরোদস্তুর অনুশীলন সেরেছে বাংলাদেশ। দলের বর্তমান অবস্থান জানাতে গিয়ে গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) রিকভারি সেশনের পরে আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা আবার অনুশীলনে এসেছি এবং গত ম্যাচে যে ভুলভ্রান্তিগুলো ছিল, টেকনিক্যালি-ট্যাকটিক্যালি যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি, মেয়েরা যে ভুলগুলো করেছে, ভুলের পরিমাণ কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে কোচ কাজ করেছে।’

‘চীন বৈশ্বিক ফুটবলে অনেক ভালো অবস্থানে আছে। তাদের বিপক্ষে এবার আমরা খেলব। ডিফেন্ডিং শেইপ, সেট-পিসগুলো নিয়ে কাজ করেছি। যাতে এই সেট-পিসে বা ডিফেন্সের ছোটখাটো কোনো ভুলে গোল হজম করতে না হয়। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো চোট নেই দলে। ছোটখাটো দুই একটা সমস্যা ছাড়া আজ মোটামুটি সবাই ট্রেনিং করেছে। মেয়েরা স্বাভাবিক খেলাটা যদি খেলতে পারে, আমরা আশাবাদী ভালো কিছুই হবে।’

অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাসও চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নিয়মিত অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের কাছ থেকে দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে অর্পিতাকে। তিনি চান দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে, ‘আমরা একটা ম্যাচ খেলে ফেলেছি ইতিমধ্যে সেখানে যে ভুলগুলো করেছি, কোচ সেগুলো নিয়ে কাজ করেছেন। কোচ আমাদের পজিশনে যে ভুলগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে কাজ করিয়েছেন। ফিনিশিং সমস্যা দূর করা নিয়েই কাজ করেছেন। চীন অনেক ভালো দল। আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত।’ আগের ম্যাচে জোড়া গোল করার পরও দলের হারে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাগরিকা। বিশেষ করে স্বাগতিকদের দুটি পেনাল্টি উপহার দেওয়ায় কষ্টটা আরও বেড়েছে তার। তবে সেই হতাশা ভুলে চীনের বিপক্ষেও গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর কথা বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচে দুই গোল করছি। অনেক ভালো লাগছিল। দল সমর্থন দিয়েছিল। সতীর্থরা যদি বল না দিত, তাহলে আমি গোল করতে পারতাম না। দল সমর্থন দিয়েছে বলে আমি গোল করতে পেরেছি। তবে ম্যাচটা হেরে যাওয়ার পর...। যাই হোক পরের ম্যাচের জন্য অবশ্যই প্রস্তুত আছি। আমরা সবাই চেষ্টা করব ভালো কিছু করার।’

বাংলাদেশ সময় ৩টায় থাইল্যান্ডের ননথাবুড়ি প্রভিন্স স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত