বিশ্বকাপের এবারের আসরটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অনেক ছোট ও উদীয়মান ফুটবল শক্তির সামনে খুলে গেছে স্বপ্নের দুয়ার। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে চার দেশ কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তান। মাঠের লড়াই শুরুর আগে চলুন জেনে নিই এই নবাগত চার দেশের ফুটবল সংস্কৃতির নাড়ি-নক্ষত্র
কেপ ভার্দে : আগ্নেয়গিরির দ্বীপ থেকে বিশ্বমঞ্চে
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ১০টি আগ্নেয়গিরি দ্বীপের সমষ্টি এই দেশ। মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি আইসল্যান্ডের পর বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। শক্তিশালী ক্যামেরুনকে টপকে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে। মাঠের শক্তি : ২০১৩ ও ২০২৩ সালের আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে তারা জানান দিয়েছিল নিজেদের সক্ষমতার। ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেসের মতে, তাদের শক্তির উৎস দলের ঐক্য এবং ঐতিহ্যবাহী ‘কাসুপা’ (শস্য ও মটরশুঁটির স্টু) খাবার। গ্রুপ : তারা রয়েছে গ্রুপ ‘এইচ’-এ, যেখানে তাদের লড়তে হবে স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে।
জর্ডান : মরুভূমির বীরদের উত্থান
এশীয় ফুটবলের নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জর্ডান। ২০২৪ সালের এশিয়ান কাপের ফাইনালে খেলে তারা তাক লাগিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে। ওমানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রা। তারকা খেলোয়াড় : জর্ডানের ফুটবলের প্রাণভোমরা মুসা আল-তামারি। ফরাসি লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ডের ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য ত্রাস। এছাড়া রক্ষণভাগে আছেন এশীয় ফুটবলের পরিচিত মুখ ইয়াজান আল-আরব। সংস্কৃতি : জর্ডানের ফুটবল আর তাদের জাতীয় খাবার ‘মানসাফ’ (দই ও ভেড়ার মাংসের বিশেষ পদ) ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গোল উদযাপনেও তারা প্রায়ই মানসাফ খাওয়ার ভঙ্গি করে থাকে। গ্রুপ : গ্রুপ জে-এ তাদের সঙ্গী আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়া।
কুরাসাও : ক্ষুদ্রতম দেশ বিশাল স্বপ্ন
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের এই স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটি এবারের বিশ্বকাপের ক্ষুদ্রতম দেশ (জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার)। ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেটের অধীনে তারা উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে বাজিমাত করেছে। বৈচিত্র্য : কুরাসাও-এর খেলোয়াড়দের বড় অংশ নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করলেও শেকড়ের টানে তারা এই দ্বীপের হয়ে খেলছেন। এখানকার মানুষ ওলন্দাজ, ইংরেজি, স্প্যানিশসহ ৫-৬টি ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী। খাদ্য ও উৎসব : জয়ের আনন্দ তারা উদযাপন করে ‘ব্লু কিউরাসাও’ ড্রিংকস এবং ‘ইগুয়ানা’ মাংসের স্টু দিয়ে। তাদের ফুটবল দর্শনে ব্রাজিলের জোগো বনিতোর বড় প্রভাব রয়েছে। গ্রুপ : গ্রুপ ‘ই’-তে তারা মোকাবিলা করবে জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্টকে।
উজবেকিস্তান : মধ্য এশিয়ার প্রথম প্রতিনিধি
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মধ্য এশিয়া থেকে প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে নাম লেখাচ্ছে উজবেকিস্তান। বহু বছর ধরে একদম কাছ থেকে সুযোগ হারানো ‘হোয়াইট উলভস’রা এবার শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণ করেছে। উজবেকিস্তানে বক্সিং জনপ্রিয় হলেও ফুটবলই তাদের ধ্যান-জ্ঞান। ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ তাদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। এছাড়া তরুণ উদীয়মান তারকা আব্বোস ফয়জুল্লায়েভ নজর কাড়তে পারেন বিশ্ববাসীর। দলের ডাগআউটে থাকছেন ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারো। তার অভিজ্ঞতা ও উজবেক ফুটবলের লড়াকু মানসিকতা যে কোনো বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। গ্রুপ : গ্রুপ ‘কে’-তে তাদের লড়াই করতে হবে পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও ডিআর কঙ্গোকে।