ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য গভীর সংঘাতে নিমজ্জিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয় কোনো দেশই।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। তিনি বলেন, ‘সরকারি কোষাগারে সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং চলমান যুদ্ধের কোনো নিশ্চিত সমাপ্তি না থাকায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশটিতে আরেক দফা জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। নতুন দাম নির্ধারণ প্রসঙ্গে দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী জানান, পেট্রোলের দাম ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার।
আলী পারভেজ মালিক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেট্রোলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার পেট্রোলের নতুন দাম ৪৫৮ দশমিক ৪০ রুপি (প্রতি লিটার ১ দশমিক ৬৪ ডলার)। এই দাম গত শুক্রবার থেকেই কার্যকর করার কথাও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘ডিজেল শ্রমজীবী মানুষ ও গণপরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২০ দশমিক ৩৫ পাকিস্তানি রুপি (১ দশমিক ৮৬ ডলার)।’
আলী পারভেজ বলেন, ‘সরকার বাজেট বিবেচনায় নিয়ে জনগণকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।’
প্রসঙ্গত বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধ শুরুর পর গত ৬ মার্চ তারা জ্বালানির দাম ২০ শতাংশ বাড়ায়। সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দেশটিতে বর্তমানে পেট্রোল ৭৭ শতাংশ এবং ডিজেল ৮৭ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য দেশটির সরকার একাধিক মিতব্যয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑঅনেক সরকারি দপ্তরে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু, স্কুলের ছুটি বাড়ানো এবং অনলাইনে ক্লাস নেওয়া।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়ার কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে বা অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, পাকিস্তানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলো শুধু জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণেই নয়, সরবরাহ জটিলতার কারণেও চাপে পড়ছে।
আইএমএফ তাদের ওয়েবসাইটে এক পোস্টে জানায়, ‘মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক এবং লাতিন আমেরিকার কিছু অঞ্চল উচ্চ খাদ্য ও সারমূল্য এবং কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে।’
