অতিরিক্ত খেয়ে অস্বস্তিতে ভুগলে

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

ডা. অথই নীলিমা

আইএমও এবং এনআইসিইউ বিশেষজ্ঞ

ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল

আমরা খেতে বসে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি। যার ফলে দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা। যেকোনো উৎসবের আনন্দের সঙ্গে যে ব্যাপারটি আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সেটা হচ্ছে খাওয়া-দাওয়া। আমরা অনেকেই আছি যারা খাবার দেখলে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারি না। তাই বেশি খাওয়ার পরিণতি হিসেবে আমাদের ভুগতে হয় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার অপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।

অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে কী করবেন

খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি পান না করুন। খাওয়া শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন। আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। সকালে উঠেই লেবু আর মধু এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে গুলে খেলে তা হজমের জন্য এবং মেদ কমাতে সহায়ক।

হজমের অস্বস্তি দূর করতে লেবু পানির জুড়ি নেই। লেবু পানি হজমের প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দেয়। এতে করে বেশি খাওয়া হয়ে গেলে যে অস্বস্তির মধ্যে পড়া হয় তা দূর হয়। এক গ্লাস জলে একটি লেবুর অর্ধেক অংশ চিপে পান করে ফেলুন। হজমের গ-গোল দূর হয়ে যাবে।

ইসবগুলের ভুসি খেলেও পেট ভালো থাকে। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার পর ইসবগুলের ভুসি দিতে পারে পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি। বেশি খাওয়া হয়ে গেলে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন; এতে দেহে ক্লান্তি এসে ভর করে। কিন্তু আপনি যদি বেশি খেয়ে শুয়ে পড়েন তবে আপনার সমস্যা আরও বেড়ে যাবে।

বেশি খাওয়া হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি হয় তা হলো, বুক জ্বালাপোড়া করা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস ও সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। যদি এতে সমস্যার সমাধান না হয় তবে অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেয়ে দেখুন। এতে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দূর হবে ইনশা আল্লাহ।

ডাবের পানি এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। চাইলে ডাক্তারের পরামর্শে ম্যাগনেসিয়াম সাইট্রেট ট্যাবলেট খেতে পারেন। মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি ইত্যাদি গুরুপাক খাবার যখন খাবেন, তখন খাবারের সঙ্গে প্রচুর সালাদ খাবেন। কারণ সালাদ খাবার হজমে সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতি বেলার খাবারে অবশ্যই বেশি বেশি সবজি খাবেন। টক দই, বোরহানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) ইত্যাদি খাবার হজমে সহায়ক। এগুলো খাবার পর খেতে পারেন।

যারা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কিডনির সমস্যা, গেটেবাত, হৃদরোগ ইত্যাদিতে ভুগছেন, তারা অবশ্যই ডাক্তারের বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মতো পরিমিত পরিমাণে গোশত খাবেন। প্রতিবেলা মাংস না খেয়ে একবেলা হলেও মাছ খান। যেমনজ্বা রাতের খাবারে মাছ রাখতে পারেন। কারণ মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ভালো। বেশি মাংস খাওয়া হয়ে গেলে দিনে সবজি, সালাদ, ফল, ডাল খেয়ে ব্যাল্যান্স করুন। দ্রুত না খেয়ে আস্তে আস্তে খাবেন এবং পরিমিত খাবেন। বেশি ক্ষুধা লাগিয়ে না খেয়ে অল্প ক্ষুধা লাগলে খান, এতে কম খাওয়া হবে। খাবার আগে পানি খেয়ে নিন অথবা দাওয়াতে যাওয়ার আগে সালাদ, ফল ইত্যাদি কম ক্যালরির সহজপাচ্য খাবার বা পানীয় খেয়ে নিন। তাহলেও কম খাওয়া হবে। কোনো বেলা বেশি খেয়ে ফেললে বা দাওয়াত থাকলে অন্য বেলা রুটি, সালাদ বা স্যুপ খেয়ে ব্যাল্যান্স করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে শর্করা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। কোমল পানীয় বা চিনিযুক্ত পানীয় না খাওয়াই ভালো। এসবের বদলে ফলের চিনি ছাড়া জুস, বোরহানি, টক দই, পুদিনা লাচ্ছি, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে পারেন।

অতিরিক্ত খেয়ে অস্বস্তি হলে যা খাবেন

ঘরে তৈরি পানীয় : রসুন, আদা, লেবু, মধু, আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে তৈরি পানীয় পান করতে পারেন। যা হজম শক্তি বাড়ানো এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

চা-কফি : চা-কফি খেতে পাবেন। বেশি খাওয়া যাবে না। শরীর থেকে পানি বের করে শরীরে দ্রুত পানি স্বল্পতা তৈরি করে। তাই চা-কফি খেলে বেশি করে পানি খেয়ে নিন।

আপেল সিডার ভিনেগার : রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণের পর আপেল সিডার ভিনেগার খেলে ৩৪ শতাংশ ইনসুলিন সংবেদনশীলতার উন্নয়ন করে এবং রক্তে শর্করা পরিমাণ পর্যাপ্ত কমায়। তাই বাসায় সবসময় অ্যাপল সিডার ভিনেগার রাখতে পারেন।

পুদিনা : পুদিনার চা খেতে পারেন বা পুদিনা-লেবুর এক গ্লাস ফ্রেশ শরবত। কারণ পুদিনা দ্রুত আপনার হজমে সাহায্য করবে।

ব্যায়াম : হালকা ব্যায়াম করুন। যেমন হাঁটাহাঁটি করুন কিছুক্ষণ। অন্তত ৩০ মিনিটের হাঁটাহাঁটি করলে আস্তে আস্তে হজম হবে।

যদি কিছুতেই কিছু না হয় তখন একটা এন্টাসিড জাতীয় অ্যান্টি অ্যাসিডিটির ওষুধ খেয়ে নিন। মনে রাখুন অতিরিক্ত খাওয়ার অপকারিতা অনেক। অতিরিক্ত খাবার নয়, পরিমিত বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত