প্রবাসজীবনে বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির চাকরি নিয়ে চীন, থাইল্যান্ডজ্বা এসব দেশে ক্রিকেটের বিস্তারের প্রচেষ্টা করেছেন, বাংলাদেশে কোচিংয়ের দায়িত্ব পেলে বিনাপয়সায় কাজ করার কথাও বলতেন তিনি। সেই আমিনুল কোচিং নয়, পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয়ে গেলেন। প্রথমে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে, এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে। যে নির্বাচন অনেক প্রশ্নবিদ্ধ, প্রতিপক্ষের উপস্থিতিবিহীন। অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে মাসখানেক সময় কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বুলবুল, উড়িয়ে দিয়েছেন না ফেরার গুঞ্জন। তবে দেশে ফিরলেও আশপাশে সৈন্যসামন্ত ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন বিসিবির প্রধান। বিসিবি পরিচালক ফায়াজুর রহমান মিতু পদত্যাগ করেছেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে। তাকে নিয়ে ২৫ সদস্যের বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করা পরিচালকের সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে চার।
সবার আগে পদত্যাগ করেছিলেন ইশতিয়াক সাদেক। এরপর আমজাদ হোসেন। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্র্তৃক মনোনীত ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। সবশেষ ফায়াজুর রহমান। তার পদত্যাগপত্রটি এলো এমন সময়, যখন বিসিবি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর জন্য খেলোয়াড় প্রতিনিধি, ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে বসার একটি তারিখ নির্ধারণ করেছে। ফায়াজুর রহমান ছিলেন বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে যাওয়া প্রসঙ্গে ফাইয়াজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছি না।’
ইশতিয়াক সাদেক তার বাবা সাবেক হকি খেলোয়াড় আব্দুস সাদেকের অসুস্থতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন পদত্যাগের কারণ হিসেবে। তবে ভেতরের খবর মূলত আমিনুল ইসলামের সঙ্গে দ্বন্দ্বই তার সরে যাওয়ার প্রধান কারণ। ইশতিয়াক টি-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী, যা বাংলাদেশের একমাত্র ২৪ ঘণ্টার খেলার চ্যানেল। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রংপুর রাইডার্সেরও তিনি প্রধান নির্বাহী। স্বার্থের সংঘাতমূলক অবস্থান নিয়ে বিসিবিপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের কারণেই তার সরে যাওয়াজ্বা এমনটিই অনেকের ধারণা। আমজাদ পদত্যাগ করেছেন তাকে না জানিয়েই বুলবুলের এনএসসির তদন্ত কমিটি গঠনসংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমকে পাঠানো কেন্দ্র করে।
