নীলফামারীতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তারা নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রবিবার (৫এপ্রিল) বিকেলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার(৪এপ্রিল) ও রবিবার এসব শিশু জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া ও শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। পরে তাদের আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি করা হয়। আক্রান্ত শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসাধীন শিশুরা হলেন- নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের রমজান আলীর ছেলে রাফসান (৮মাস), শহরের বাবুপাড়া এলাকার শাজেদুল ইসলামের ছেলে সামির (১১মাস), ফুলতলা এলাকার নুরুজ্জামানের মেয়ে নুসাইফা জান্নাত (১ বছর), দেবীরডাঙ্গা এলাকার সুমনের ছেলে রাইয়ান (৭মাস), ইটাখোলা এলাকার ফরিদ ইসলামের মেয়ে ফারিজা (৫মাস), চাঁদেরহাট এলাকার আনিছুর রহমানের মেয়ে মেহেজাবিন আক্তার (১বছর), শিমুলতলী এলাকার রাকিবুল ইসলামের ছেলে অপু তালহা (৮মাস) এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শান্তাহার এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে তাকওয়া (১বছর)।
মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার জানান, ভর্তি হওয়া শিশুদের পৃথকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা হামে আক্রান্ত কিনা। তিনি বলেন, এর আগে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ৬ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়নি। তারা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে শনিবার (৪এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টায় ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের খগারহাট চাবুলেরটারী এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ১১দিনের মেয়ে আফরিন জান্নাত হামের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে নমুনা সংগ্রহের পর রাতে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
নীলফামারী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র মতে, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১জন চিকিৎসাধীন। এরমধ্যে সদর জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন, ডিমলায় দুইজন ও সৈয়দপুরে একজন আছে।
