ক্যাপসিকাম কৃষকের জন্য লাভজনক ফসল

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ এএম

প্রথমবারের মতো পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে দাউদকান্দিতে এ বছর ৫ হেক্টর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে মালচিং পদ্ধতিতে  ক্যাপসিকাম চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোহাম্মদপুর ও মালিগাঁও ইউনিয়নে পরীক্ষামূলক পাঁচ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম আবাদ হয়েছে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মলয় গ্রামের জামাল হোসেন, আয়শা বেগম ও মালিগাঁও ইউনিয়নের আনুয়াখোলা গ্রামের মোজাম্মেল হক ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করায় সার কম লাগছ, আগাছা জন্মায় কম এবং সারও কম দিতে হয়েছে। তাই এই পদ্ধতিতে চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। আনুয়াখোলা গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক একসময় শিক্ষকতা করতেন। উচ্চশিক্ষিত অনুসন্ধিৎসু এই কৃষক প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় শখের বসে ২০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক আবাদ করেন ক্যাপসিকাম। তিনি জানান,  প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন, বাজারে এর দাম ভালো থাকায় লাভের আশা করছেন। আর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈব সার, রাসায়নিক সার, পলি মালচিং ফিল্ম পাওয়ায় খরচও কম হয়েছে।

সরকার উৎপাদনে ভর্তুকি না দিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতে ভর্তুকি দিলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হতাম।

মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষানি আয়শা বেগম বলেন, প্রথম ৩০ শতক জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, মালচিং পেপার দেওয়ায় খরচ অনেক কম পড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুইশ কেজি বিক্রি করেছি। প্রথমবার করতে গিয়ে কখন কি লাগবে না লাগবে বুঝতে পারিনি। আগামীতে আরও ভালোভাবে করার চেষ্টা করব। এ সবজি চাষে আর্থিক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রাসারণ প্রকল্পের আওতায় এবারই প্রথম দাউদকান্দির মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে কৃষকরা ক্যাপসিকাম চাষ করেছে। ফলন ভালো পেয়েছে, আগামীতে আরও বেশি চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করব।

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা জানিয়েছেন, দাউদকান্দিতে পাঁচ হেক্টর জমিতে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম আবাদ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছে। সবজির আবাদ আগামী মৌসুমে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি। কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হবে। উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণের বিষয়টি যদিও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের, তারপরও সরেজমিন  কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত