অভিযান শেষ হতেই আবার দোকান খোলেন হকাররা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাঁচ দিনব্যাপী অভিযানের গতকাল রবিবার ছিল শেষ দিন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানের তালিকা আগেই প্রকাশ হওয়ায় হকার ও ব্যবসায়ীরা ছিলেন সচেতন। অভিযানের প্রথমে দুই-তিনটি দোকানে জরিমানা ও ভাঙা হলে সবাই নিজ নিজ মালামাল সরিয়ে ফেলেন। আবার অভিযান শেষ হলেই দোকান খুলে বসেন হকাররা। তবে পুলিশ বলছে, মালামাল সরিয়ে ফেললেও ফুটপাতে তাদের দোকান থাকলে জরিমানা করা হচ্ছে। কোনো দোকানিকে না পেলে তাদের সরঞ্জাম ও দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল উচ্ছেদ অভিযানে ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে ডিএমপি।

গতকাল সকাল ১০টায় মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে বাণিজ্যিক এলাকা এবং দৈনিক বাংলা থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তবে অভিযান শুরুর আগেই এসব এলাকার ফুটপাত ফাঁকা হয়ে যায়। হকাররা মালামাল সরিয়ে আশপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে। যাতে পুলিশের গাড়ি ও ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলেই আবার পসরা সাজিয়ে বসবেন অনেক ফুটপাত ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ বেলা ১১টার দিকে ওই এলাকায় অভিযান শুরু হয়। সকাল থেকেই ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দোকান খোলেননি। অনেকেই গত দুই-তিন দিন ধরে দোকান বন্ধ রেখেছেন। তবে কেউ কেউ দূরে অবস্থান নিয়েছিলেন, যেন অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার দোকান খোলতে পারেন। অভিযানে ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের না পেয়ে তদের রেখে যাওয়া অনেকগুলো চৌকি কাভার্ডভ্যানে করে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে অনেক ব্যবসায়ী ছোট ছোট ভ্যানে করে তাদের চৌকি দূরে সরিয়ে রাখেন।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের উল্টো পাশে মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশনের কাছে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবহৃত চৌকি সরিয়ে রেখেছিলেন। তাদেরই একজন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে অপেক্ষায় রয়েছি, অভিযান শেষ হলেই দোকান খুলব। আমাদের আগে থেকেই জানা রয়েছে আজকে অভিযান হবে। তাই সব মালামাল ও চৌকি সরিয়ে রাখছি।’

উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকার ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানেও ঘটে একই ঘটনা। গতকাল বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এ অভিযান শুরু হয়েছিল। তবে অদৃশ্য আগাম বার্তায় আগেভাগেই পুরো এলাকায় ফুটপাত থেকে উধাও হয়ে যায় ভাসমান দোকানগুলো। এতে করে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই এলাকাটি অনেকটাই দখলমুক্ত হয়ে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাত ও মার্কেটের বাইরের ভাসমান দোকানিরা সকালে কেউই দোকান খোলেননি। সবাই ফুটপাতজুড়ে থাকা ছোট ছোট দোকান, স্টল কিংবা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার উপকরণগুলো মাথায় নিয়ে সরিয়ে ফেলেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির একজন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকাসহ রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। আজ আমরা সবাইকে সতর্ক করছি। জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘœ রাখতে ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ ব্যবসা করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযানে ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের অভিযানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অভিযানে ১১ ব্যবসায়ীকে মোট ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক রমনা বিভাগের অভিযানে ৫২টি বাইকের বিরুদ্ধে ভিডিও মামলা ও ১৫টি তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত