ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ হবে এবং ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে পূর্ণাঙ্গ তফসিল। গতকাল সোমবার কমিশন সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আকতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, ভোটের তারিখ চূড়ান্ত হলেও মনোনয়নপত্র দাখিলসহ নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি ৮ এপ্রিল ঘোষিত তফসিলে জানানো হবে। এর আগে প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের জোটসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়াও ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সে হিসাবে আগামী ১২ মে -এর মধ্যেই এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।
ইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা ৫ এপ্রিলের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের জোটগত অবস্থান লিখিতভাবে কমিশনে জমা দিয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী আসন বণ্টনের হিসাব করা হবে।
জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি করে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কোনো ক্ষেত্রে ভগ্নাংশ তৈরি হলে তা সমন্বয় বা প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে।
এবার আসন বণ্টনের হিসাব করা হচ্ছে ২৯৭টি সাধারণ আসনের ভিত্তিতে, কারণ চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। এ হিসাবে বিএনপি ২০৯টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে। জোটসঙ্গী গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলনকে যুক্ত করলে এ সংখ্যা বেড়ে ৩৬ হতে পারে।
অন্যদিকে, ৬৮টি আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী এককভাবে প্রায় ১১টি সংরক্ষিত আসনের অধিকারী। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসকে সঙ্গে নিয়ে তাদের জোটগত আসন সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৩টি।
এই দুই জোটের বাইরে থাকা স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে ছয়জন জোট গঠন করায় তারা একটি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিতে পারবেন। তবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং বরগুনা-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওলি উল্লাহ কোনো জোটে যুক্ত হননি।
শেরপুর ও বগুড়ার উপ-নির্বাচন : আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ এবং বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই দুই আসনের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ইসি সচিব জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। ভোটার বা সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং এই নির্বাচনকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
