চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে প্রতিদিন লাগছে নানা জনের ছবিসংবলিত নতুন নতুন রঙিন পোস্টার। কোনো কোনো পোস্টারে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের ছবিও। এলাকাবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে লাগানো কিছু কিছু পোস্টারে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের সেবা করার সুযোগ চেয়েছেন তারা। মূলত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচন ঘিরেই নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই এভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন এলাকার মানুষের কাছে।
আদালতের রায়ে বিগত ১৭ মাস ধরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের চেয়ারে আসীন রয়েছেন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। তবে নেই কোনো কাউন্সিলর। কাউন্সিলরবিহীন অবস্থায় চলছে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সেবা কার্যক্রম। সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ পরিষদের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেলেও ঘোষণা করা হয়নি নির্বাচনী তফসিল। যে কোনো সময় নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই নির্বাচনী মাঠ গোছাতে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, চসিক নির্বাচনে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলররা মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কিছু বর্তমান ও সাবেক নেতার তৎপরতা দৃশ্যমান রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন বলয়ে বিভক্ত বিএনপির একাধিক নেতার অনুসারীরা। আবার অধিকাংশ ওয়ার্ডে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। নির্বাচন সামনে রেখে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর কিংবা পদ-পদবিধারী নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা চোখে না পড়লেও কিছু কিছু ওয়ার্ডে দলীয় পদ-পদবিবিহীন আওয়ামী সমর্থকদের কেউ কেউ নানা সামাজিক কর্মকা-ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। সুন্নিপন্থি দুটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ সমর্থিত কিছু সম্ভাব্য প্রার্থীর তৎপরতাও রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ডে।
নগরীর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের একাধিক স্থানে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আবদুল মান্নানের ছবিসংবলিত পোস্টার। নগরীর টেরিবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচিত সভাপতিও তিনি। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরো সময়টাতেই তো এলাকার বিভিন্ন কর্মকা-ের মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন দায়িত্ব পালন করেছি, আবার এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজের জন্য কাজ করেছি। দলমত নির্বিশেষে সবার ভোটে একাধিকবার টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকার উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী সমাজের অনেকে আমার এই আগ্রহকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
নগরীর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ভাসছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক নেতা ইদ্রিস আলীর নাম ও ছবি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকে যখন প্রতিনিয়ত হামলা-মামলার শিকার হচ্ছিলেন তখন মহানগর বিএনপির পক্ষে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়য়ের কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ইদ্রিস আলী বলেন, যারা মানুষের জন্য রাজনীতি করেন স্বাভাবিকভাবেই জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে তাদের জন্য কাজ করার ইচ্ছা ও মানসিকতা তাদের থাকে। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে দলের সমর্থন এক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি; দলের জন্য আমার ত্যাগ, অবদান, ঝুঁকি সবকিছু বিবেচনায় সেই সমর্থন আমি পাব।
পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান সাবেক কাউন্সিলর মো. হাসান লিটন। পাশাপাশি আলোচনায় আছেন মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ম. হামিদসহ অনেকের নাম। এই ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন দলের চান্দগাঁও থানার সাবেক আমির ও মজলিশে শূরা সদস্য নুর হোসেন।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীর নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে এই দুই দলের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে তাদের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকা তৈরি করে রেখেছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে তারা নিজ নিজ ওয়ার্ডে দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে মাঠ গোছানোর মূল দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, দলীয় প্রার্থীও বিষয়ে বিএনপিতে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিষয়ে এখনো কিছু ভাবছেন না, জানিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. নাজিমুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইবেন এটা একেবারের স্বাভাবিক।
