মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি নতুন চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে দেশটির ওপর ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া এই ডেডলাইন হলো ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা)। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি সচল রাখা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার শর্তেই এই চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সরাসরি জানান, যদি ইরান শর্ত না মানে তবে তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশটাকে এক রাতেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব, আর সেই রাতটা হয়তো আগামীকালই। তাদের কোনো সেতু কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্র অবশিষ্ট থাকবে না।’
এই সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া না দেয় তবে তাদের কয়েক দশক পিছিয়ে দেওয়া হবে।
বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান এখনই কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যার কথা জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে এবং উত্তর পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো যেমন—বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু ধ্বংস করার এই হুঁশিয়ারিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা ভিন্নভাবে দেখছেন। ওবামা আমলের সাবেক আইন উপদেষ্টা টেস ব্রিজম্যান সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক জনগণকে চাপের মুখে ফেলতে এ ধরনের আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার জন্য এই কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত।
সংকটকালীন এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি সহায়তা না করায় যুক্তরাজ্য, ন্যাটো এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি ন্যাটোর নিষ্ক্রিয়তাকে ‘কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার কাউকে পাশে দরকার নেই।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মঙ্গলবার রাতের ডেডলাইনের দিকে, যা নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভাগ্য।
সূত্র: বিবিসি