বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ে অস্থিরতায় দেশে এ খাতে বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্য সারা পৃথিবীর অনেকে বাড়ালেও আমরা অন্তত আরও এক মাসের জন্য বাড়াচ্ছি না। জ্বালানিতে ‘বড় ধরনের’ ভর্তুকির চাপ রয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগে থেকেই বড় অঙ্কের ভর্তুকি জমা আছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই এই খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বোঝা ছিল, যা জ্বালানিমন্ত্রীও উল্লেখ করেছিলেন। এখনো এই ভর্তুকি চালু আছে এবং জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে আরও ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, যদি সংকট বাড়তে থাকে, এই অফিস বলেন বা মার্কেট বলেন; সব ক্ষেত্রেই আমরা হয়তো আরও টাফার (কঠিন) সিদ্ধান্ত নেব বা নিতে হতে পারে। এটা গুরুত্বপূর্ণ। কেন নিচ্ছি, নিয়ে কী অর্জন করছি এই বার্তাগুলো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছতে হবে, আমরা সেই চেষ্টা অবশ্যই করব।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণও অনেক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আইপিপি) কাছে বকেয়া ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। আদানি পাওয়ারের কাছে ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, জয়েন্ট ভেঞ্চারে ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার কাছে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে ৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে এই ভীতি বা সংশয় আছে যে, জ্বালানি সরবরাহ কি অনেক কমে গেছে যে, আমরা এত বড় লাইন দেখছি। যদি আমরা তুলনা করি, ২০২৫ এবং ২০২৬-এর মধ্যে। ডিজেল ২০২৫ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ মেট্রিক টন। মার্চে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ মেট্রিক টন। কিছুটা কমেছে তো বটেই; কিন্তু সেটা খুব সিগনিফিক্যান্টলি কমে গেছে, তা না। অকটেন ৩৬ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন ছিল ২০২৫ এর মার্চে। মানে আমরা দুটি বছরের মার্চকে তুলনা করছি। অকটেনের সরবরাহ বরং খানিকটা বেড়েছে, ৩৭ হাজার ৪৩৯ মেট্রিক টন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের পর আগের সরকারের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মধ্যেও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, দুদক এখনও পুনর্গঠিত হয়নি। এটি সম্পন্ন হলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু হবে। শুধু আগের সরকারের দুর্নীতিই নয়, বর্তমান সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
