রাজধানীর কিছু স্কুলে পরীক্ষামূলক অনলাইন অফলাইন ক্লাস

জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৫ এএম

রাজধানীর কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সব স্কুলে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত মডেলে সপ্তাহজুড়ে কিছু দিন অনলাইন এবং কিছু দিন অফলাইন ক্লাস থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠক্রমের মধ্যেই থাকবে। উদ্ভূত সংকট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় এমন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যেন জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকটই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ সব জায়গায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীদেরও সেই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই।’ এ জন্য সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন এয়ারকন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশের ২৮৩৯ গ্রামে বিদ্যালয় নেই : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৯টি। এসব গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুর সংখ্যা প্রায় পৌনে তিন লাখ। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থায়নে এখনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। গতকাল জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৯টি। বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকায় ৭১৭, চট্টগ্রাম ৮১৮, রাজশাহীতে ৩৫৫, রংপুরে ৩৭, খুলনায় ৩৪১, বরিশালে ৪৫, সিলেটে ২৬০, ময়মনসিংহ বিভাগের ২৬৬ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুর সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ৫১৩ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত