গুরুদাসপুর 

স্কুল শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে হাতুড়ি দিয়ে হামলা, আহত ১

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ধারাবারিষা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলাধুলার অনুষ্ঠান চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

এ সময় একই ইউনিয়নের উদবারিয়া গ্রামের মঈনুলের ছেলে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজ, লালনের ছেলে তারেক ও হাসানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিরাজ ও সাপাই রাইসুলের ওপর হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গেলে একই গ্রামের শাহানুরের ছেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণের ওপর হামলা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার হাতুড়ি দিয়ে শ্রাবণের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

আহত শ্রাবণ জানান, তিনি গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং নানাবাড়ি শিকারপুরে থেকে পড়াশোনা করেন। নিজ গ্রামের একটি স্কুলের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বোরকার ভেতর থেকে হাতুড়ি বের করে তাকে আঘাত করে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও এতে সহযোগিতা করে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মিনহাজুল ইসলাম মিলন জানান, আহত শিক্ষার্থীর মাথায় দুই স্থানে মোট ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ধারাবারিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শের-আলম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় এলাকায় ছিল না বলে জানা গেছে। তিনি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুরুল আলম জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত