দুমকিতে মুগডালের ব্যাপক আবাদ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় চলতি মৌসুমে মুগডালের ব্যাপক আবাদ হয়েছে এবং অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে কৃষকেরা অধিক জমিতে মুগডাল চাষ করায় উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ও পাঙ্গাশিয়া-এই পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কৃষকের আগ্রহ ও অনুকূল পরিবেশের কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে আবাদ।

শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক মানিক মৃধা জানান, তিন একর জমিতে তিনি মুগডাল চাষ করেছেন। কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় সবাই এখন মুগডালের চাষ করেছেন। রাজাখালী গ্রামের কৃষক মজিদ হাওলাদার বলেন, আলু, মরিচ, ও খেসারির পাশাপাশি তিনি বেশী পরিমাণ জমিতে মুগডাল চাষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, কম খরচ ও শ্রমে বেশী লাভ হওয়ায় সবাই মুগডাল চাষে আগ্রহী হয়েছেন। রাজাখালী মৌজায় কোনও জমি ফাঁকা নেই। সবাই কম-বেশী মুগডাল চাষ করেছেন।

কৃষকরা জানান, মুগডাল একটি স্বল্প খরচে লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন এর প্রতি ঝুঁকছেন তারা। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম সেচ, কম সার ও কম পরিচর্যায় ভালো ফলন পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে মুগডালের চাহিদা ও মূল্য তুলনামূলক ভালো থাকায় কৃষকেরা বেশি জমিতে এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। অতিবৃষ্টি কিংবা বড় ধরনের কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর মুগডালের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে পারেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হওয়ায় উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে কৃষকের আর্থিক লাভ বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের ডাল উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত