জয়পুরহাটে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের কর্মচারীর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের ২টি মামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল জয়পুরহাট সদর উপজেলার নারায়ণ পাড়া এলাকার রোগী এরফান আলী তার ছেলে জজ কোর্টের ড্রাইভার আরিফসহ তার পরিবারের সদস্যরা লিফটের তৃতীয় তলায় যাওয়ার জন্য হাসপাতালের লিফটে ওঠেন। এ সময় লিফটের দায়িত্বে থাকা অপারেটর শিহাব বলেন- কারিগরি ত্রুটির কারণে তৃতীয় তলায় লিফট থামবে না। তারপরও লিফটে রোগী এরফান, তার ছেলে আরিফসহ অনন্য সদস্যরা লিফটে উঠে পড়েন। এ সময় শিহাব ও আরিফে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লিফটের মধ্যেই তাদের ও অন্য রোগীর লোকজনের সঙ্গে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়। এরপর দুপক্ষই থানায় মামলা করার পর হাসপাতাল ও আদালত পাশাপাশি হওয়ায় এলাকায় চলছে উত্তেজনা।
এরপর হাসপাতালে কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও দ্রুত হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রতাহার চেয়ে বৃহস্পতিবার ২৫০ শয্যা জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন কর্মচারীরা। মানববন্ধনে হাসপাতালের কর্মচারীরা বলেন, দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা কর্মবিরতিসহ পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্মচারী আব্দুল খালেক, শিরিন শিলা, শিরি খাতুনসহ অনেকে বলেন, হাসপাতালের এভাবে যদি হামলা করে আমাদের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে আমরা রোগীদের সেবা কিভাবে দেব। আমরা চরম নিরাপত্তাহীতায় ভুগছি। দ্রুত আমাদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করলে আমরা হাসপাতালে কর্মবিরতিসহ বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেব।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আহত কর্মচারী শিহাব বলেন, তিন তলার লিফটে বন্ধ বলেছি তার পরও জোরপূর্বক লিফটে উঠে ড্রাইভার আরিফ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন। এরপর লিফট সাত তলায় যেতে শুরু করলে লিফটের মধ্যে আমাকে মারধর করে। এ সময় লিফটের অনন্য লোকজন বাধা দে। এ সময় আমার ও লিফটে থাকা সাধারণ রোগীর লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর বিষয়টি উভয় পক্ষের লোকজন মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে থানায় আমাদের নামে মামলা করেছে। আমরা চরম আতংকের মধ্যে আছি।
আহত ড্রাইভার আরিফ হোসেন বলেন, হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের কর্মচারীদের এমন দুঃব্যবহার ও তাদের হাতে আমরা মারধরের শিকার হয়ে রোগী হয়ে গেলাম। তাহলে আমরা যাব কোথায়? আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? থানায় আমি মামলা করেছি আমাদের মারধরের সুষ্ঠু বিচারের জন্য। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
২৫০ শয্যা জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, লিফটের ওঠাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের কর্মচারীর রোগীর স্বজনদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, হাসপাতালের লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে দই পক্ষের পৃথক থানায় দুটি হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
