মোহামেডানকে হারিয়ে আবাহনীর বদলা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২০ এএম

দেশের ফুটবল পেশাদার যুগে পা রাখার পর দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে যোজন এগিয়ে আবাহনী। নিজেদের অগ্রযাত্রাটা শুক্রবার আরও সমৃদ্ধ করেছে চিরবৈরী মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনীকে জয় এনে দেন জাতীয় দলের তরুণ স্ট্রাইকার মিরাজুল ইসলাম ও মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে। এই জয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে প্রথম পর্বে ৩-২ গোলে হারের বদলা নিয়েছে আবাহনী।

২৭ দিন বিরতি শেষে তিন ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরেছে লিগ। তিন ভেন্যুতে খেলা হলেও সবার দৃষ্টি ছিল ঢাকা ডার্বিতে। গত লিগের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান এবার ধুঁকছে শুরু থেকেই। আগের ১১ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা এ ম্যাচ শুরু করেছিল ষষ্ঠ স্থানে থেকে। এই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট না পাওয়ায় তাদের নেমে যেতে হয়েছে ১০ দলের লিগ টেবিলের সাতে।

জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে আবাহনী উঠে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। ১২ ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠ জয়, ২২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলছে মারুফুল হকের দল। আজই অবশ্য তিনে ফেরার সম্ভাবনা আছে তাদের। ফর্টিস এফসি আজ পুলিশ এফসিকে হারালেই ফের চলে যাবে দ্বিতীয় স্থানে। আজ অন্য ম্যাচে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা খেলবে তলানির দল আরামবাগের সঙ্গে।

দীর্ঘ সময় সংস্কারের পর বাফুফে এখনো লিগের জন্য ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেয়নি। তাই গত কয়েক মৌসুম ধরেই কুমিল্লাকে হোম ভেন্যু করেছে আবাহনী ও মোহামেডান। গতকাল সেটি ছিল আবাহনীর হোম। প্রথম পর্বে মোহামেডান জিতেছিল ৩-২ ব্যবধানে। সেই হারের পর থেকেই মারুফুল হকের শিষ্যরা ঘুরে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে এগিয়েছে। মোহামেডান ঠিক তাদের উল্টো, যেন উল্টোরথের যাত্রী তারা। গতকাল টানা অষ্টম ম্যাচে জয় পেল না আলফাজ আহমেদের দল। তাতে মোটামুটি বলাই যায়, গত মৌসুমে প্রথমবার পাওয়া শিরোপা এবার আর ধরে রাখতে পারছে না সাদা-কালোরা।

সাপ্তাহিক ছুটি বলেই ঢাকা ডার্বি দেখতে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন কয়েকশ দর্শক। তাদের একটা জমজমাট ম্যাচ উপহার দিয়েছে দুদল। মোহামেডান অবশ্য শুরুতে লিড নেয় মোজাফফরভ ম্যাজিকে। তৃতীয় মিনিটে এই উজবেক প্লে-মেকারের কর্নার বাঁক খেয়ে মিতুল মারমাকে বোকা বানায়। অলিম্পিক গোলে বুঝিয়ে দেন এখনো কতটা কার্যকর মোজাফফরভ। অথচ প্রথম পর্ব শেষে সাদা-কালোয় আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলে ফিরেছেন।

মোজাফফরভের অসাধারণ গোলের পাঁচ মিনিট পর ভালো একটা সুযোগকে গোলে রূপান্তর করতে পারেননি সদ্য জাতীয় দলের হয়ে খেলা মিরাজুল ইসলাম। বক্সের ভেতর থেকে তার শট রুখে দেন মোহামেডান কিপার সুজন হোসেন। তবে আক্ষেপ মিরাজুল ঘুচিয়েছেন ১৭ মিনিটে। নাইজেরিয়ান এমেকা ওগবাহর পাস ধরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যে শট নেন, তা এবার আর রুখতে পারেননি সুজন।

সমতায় ফেরার পর চাপ বজায় রেখে আবাহনী চেয়েছে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে। বাঁ দিক দিয়ে এমেকাকে ধরেই রাখতে পারেননি মোহামেডানের ডিফেন্ডাররা। বারবার আক্রমণে উঠে দিয়াবাতে ও মিরাজুলকে বলের জোগান দিয়েছেন। তবে এই অর্ধে আর গোলের দেখা পায়নি আবাহনী। বিরতির পরপরই মিতুলের সঙ্গে সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাঠ ছাড়তে হয় আবাহনীর ডিফেন্ডার হাসান মুরাদকে। একটি বল ক্লিয়ার করতে লাফিয়েছিলেন দুজনই। মিতুল সেটা লুফে নিয়ে পড়ে যান মুরাদের ওপরে। এতে চোয়ালে মারাত্মক আঘাত পেলে তৎক্ষণাৎ তাকে পাঠানো হয় হাসপাতালে।

ম্যাচের ৫৭ মিনিটে বড় বাঁচা বেঁচে যায় মোহামেডান। বদলি নামা শেখ মোরসালিনের ক্রসে ইয়াসিন খানের প্রচেষ্টা বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে কর্নার করেন মোহামেডানের বদলি কিপার সাকিব আল হাসান। মোরসালিনের নেওয়া সেই কর্নার গোলমুখের জটলায় এলে বদলি ফরোয়ার্ড সবুজের ডান পায়ের প্লেসিং ক্রসবার কাঁপায়।

৬৩ মিনিটে এমেকা তিনজনকে কাটিয়ে আক্রমণে উঠে চেয়েছিলেন কাটব্যাকে বল দিয়াবাতের পায়ে পৌঁছাতে। তার আগেই অবশ্য সাকিব বলের আয়ত্তে নেন। দুই মিনিট পর অবশ্য ঠিকই এমেকার কাটব্যাক খুঁজে পায় দিয়াবাতের বিশ্বস্ত পা। তা আয়ত্তে নিয়ে পুরো শরীর ঘুরিয়ে ডানপায়ের টোকায় বল জালে পৌঁছে দেন। যে মোহামেডানের হয়ে ক্যারিয়ারে ৯৬ গোল করেছেন গত পাঁচ মৌসুম, যে মোহামেডানের হয়ে আবাহনীর বিপক্ষেই রয়েছে অসংখ্য গোল, সেই মোহামেডানের বিপক্ষে প্রথম গোল করেন দিয়াবাতে।

শেষ পর্যন্ত দিয়াবাতের গোলে পাওয়া লিড ধরে রেখে আবাহনী মাঠ ছাড়ে চওড়া হাসি নিয়ে। পেশাদার লিগে ৩৪তম লড়াইয়ে আবাহনী পেল ১৫তম জয়। তাতে মোহামেডানকে সেই খতিয়ানে আরও পিছিয়ে পড়তে হলো। ব্যর্থ হলো তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত