ছোটবেলা থেকেই কাইছার খানের স্বপ্ন ছিল তিনি একজন উদ্যোক্তা হবেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামে। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করেই পারিবারিক কারণে চাকরি শুরু করলেন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তবে ২০২০ সালের করোনাকালীন সময়ে মায়ের মৃত্যুর পর সপরিবারে চলে আসেন চুনতি গ্রামে। প্রথমে ভেবেছিলেন চাষাবাদ করবেন। কিন্তু তিনি যুক্ত হলেন জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদনে। বর্তমানে তার উৎপাদিত সার লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে এলাকার কৃষিজমিতে রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে জৈব ও কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ছে এবং মাটির উর্বরতা সঠিক থাকছে। তিনি তৈরি করেছেন সুপার অর্গানিক ফার্টিলাইজার লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ব্যবসা থেকে আয়ের টাকায় ছেলেমেয়ের লেখাপড়াসহ সচ্ছল জীবনযাপন করছেন কাইছার খান।
কাইছার খানের সঙ্গে আলাপকালে জানান, কেঁচো সার উৎপাদনে তার ছিল না কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা। তাই ঢাকায় গিয়ে গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল গ্যাপ থেকেও নেন প্রশিক্ষণ। প্রথমেই জৈব সার উৎপাদন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা অনুষদের ল্যাব টেস্টে ব্যর্থ হন তিনি। পরবর্তী সময় পুনরায় উৎপাদন করেন এবং ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হয় তার উৎপাদিত জৈব সার।
কাইছার খান জানান, জৈব ও কেঁচো সার মিলিয়ে প্রতি মাসে তিনি ২০-৩০ টন সার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি জৈব সার ১২ টাকা এবং প্রতি কেজি কেঁচো সার ১৫ টাকায় বিক্রি করেন। খরচ বাদে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেন।
এ ব্যাপারে চুনতি ইউনিয়নের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতি মাসে কাইছার খানের থেকে কয়েক টন জৈব ও কেঁচো সার ক্রয় করি।’
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. ইকবাল হোসাইন বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে কৃষকরা শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব ও ত্বকের সমস্যা নিয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া নানা মরণব্যাধি রোগেও কৃষকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, বিষমুক্ত সবজি চাষ, ধান চাষ ও ফলদ উৎপাদনে অবশ্যই জৈব সার ব্যবহার করা উচিত। একমাত্র জৈব সারই মাটির প্রাণ ফিরিয়ে আনে। কাইছার খানের এ প্রকল্পের কারণে স্থানীয় অধিকাংশ কৃষক রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে এ জৈব ও কেঁচো সার ব্যবহার করছেন, যা মানুষের সুস্থতা ও নিরাপদ খাদ্যের জন্য খুবই জরুরি।