জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে যখন মন্ত্রীরা, সরকারি দলের সদস্যরা কথা বলেন, তখন মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না। সংসদে সব আশা বিফলে না গেলেও ভালো কিছু মেলেনি। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু গত শুক্রবারের ইভেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় বাস্তবতা ভিন্ন।
গতকাল শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ‘ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’ এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব : উত্তরণের উপায় শীর্ষক’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ডা. শফিকুর রহমান।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিজমের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশ চব্বিশের বৈপ্লবিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্তি পেয়েছে। এ আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, জীবন দেওয়া লোকদের ৬২ শতাংশ হচ্ছেন শ্রমিক। আর আমরা বাকি সবাই মিলে ৩৮ শতাংশ। এটি পৃথিবীর ইতিহাস।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও একই ঘটনা। ’৯০-এর গণআন্দোলনেও একই ঘটনা, চব্বিশের গণআন্দোলনেও একই ঘটনা। অথচ রাষ্ট্রের কাছে শ্রমিক সমাজের প্রত্যাশা, দাবি ও চাহিদা খুবই মামুলি। দুঃখের বিষয়, এই সামান্যটুকু চাহিদাও তাদের এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই পরিপূরণ করতে পারেনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের চিকিৎসা সংগতভাবেই এর ব্যয়ভার সরকার এবং মালিক পক্ষকে শেয়ার করে বহন করতে হবে। কারণ শ্রমিকদেরকে যা বেতন-ভাতা দেওয়া হয়, তা দিয়ে পেটের জোগানই হয় না, চিকিৎসার খরচ বাঁচাবে কোত্থেকে? পাশাপাশি শ্রমিকদের সন্তানদের মানুষ করা, শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে শুধু সরকারকেই নিতে হবে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল ও ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ। সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছিলাম, আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি বলব না যে সব আশা বিফলে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি। দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে গোটা সমাজ চলছে গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু হিসাব মেলানোর চেষ্টা চলছে, যেখানে ক্যাশ নেই কিন্তু খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই ‘গোঁজামিল’ দিয়ে দেশ চলতে পারে না। আমাদের উচিত মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সোসাইটি গড়ে তোলা, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।
অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এটিএম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
