গত ১৭ বছর দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির ছিল উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ের অনেক আয়নামুলি হয়েছে, অনেক অসামঞ্জস্যতা আমরা লক্ষ্য করেছি। আমরা আর পেছনে যেতে চাই না। সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার। অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা সব টেক্সটাইল ও জুট মিল চালু করা হবে সারা দেশে বন্ধ মিলগুলো বিশেষ করে পাট এবং বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেক্সটাইল ও জুট মিলগুলো পরিদর্শন করছি। পর্যায়ক্রমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এনে আমরা এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
নীলফামারীর প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল উল্লেখ করে মো. শরীফুল আলম বলেন, যদিও মিলটি বন্ধ আছে। তবে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে বিশেষ করে টেক্সটাইল বা জুট মিল এগুলো চালুর লক্ষ্যে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি।
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মিলটিকে নিয়ে আমরা ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার আহ্বান করেছি। এক সঙ্গে মূল্যায়নের কাজ চলছে। আমরা একটা ভালো বিনিয়োগকারীও পেয়েছি। আশা করছি যে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশেষ করে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই মিলে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। এটা আবার চালু হবে এবং এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
পাটের সোনালি যুগ পুনরুদ্ধারে নানাবিধ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে জানিয়ে বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সোনালি আঁশ ছিল আমাদের একটা ঐতিহ্য, পাটের একটা সোনালি যুগ ছিল। আজকে সেটি অনেকটা কমে এসেছে, হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা যে পানিতে পাট জাগ দিতাম। সেই জাগের জন্য পানির যে দুষ্প্রাপ্যতা, এটাকে ঠিক করার জন্য খাল খনন কর্মসূচি আবারও চালু হয়েছে। যাতে প্রতিটা বাড়ির সামনে পেছনে পানির প্রবাহ থাকে। প্রাকৃতিক পানি যাতে এই পাট জাগ দেওয়া যায়। পাট চাষীদেরকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া, বীজের ক্ষেত্রে যে আরও আরও ফলন যাতে বাড়ে এ ক্ষেত্রেও আমাদের গবেষণা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, সব ধরনের প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে আমরা নিরুৎসাহিত করছি। আমরা আগামী দিনে পাটের জিনিসপত্র ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করব। দেশীয় বিভিন্ন পাটজাত পণ্যের ব্যবহার কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের অনেক উদ্যোক্তা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যারা পাটের জিনিসপত্র তৈরি ও বাজারজাত করছে তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাক্ষাৎকার করেছেন। দ্রুত একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে।
এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুর লতিফ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি, নীলফামারী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এ বি এম ফয়জুল ইসলামসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা।
