বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ মানেই এক সময় ছিল ধুলো ওড়ানো মাঠে গ্রামীণ খেলাধুলার মহোৎসব। বৈশাখী মেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল হা-ডু-ডু, বলিখেলা, লাঠিখেলা কিম্বা মোরগ লড়াই। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং প্রযুক্তির দাপটে এইসব ঐতিহ্যবাহী খেলা এখন কেবলই স্মৃতি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এসব খেলা এখন রূপকথার গল্পের মতো মনে হয়।
এক সময় চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বিভিন্ন বৈশাখী মেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল হা-ডু-ডু ও বলিখেলা। এই খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত। কিন্তু এখন মেলাগুলো প্রধানত বাণিজ্যিক পণ্যের বাজারে পরিণত হয়েছে। নাগরদোলা আর প্লাস্টিকের খেলনার ভিড়ে হারিয়ে গেছে সেই মাটির গন্ধ মাখা দেশি খেলাগুলো।
স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের অধিকাংশেরই হা-ডু-ডু বা বলিখেলার নিয়ম সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তারা অবসরের বড় একটা সময় কাটায় স্মার্টফোনের গেম কিম্বা ভিডিও দেখে।
সুজাতপুর গ্রামের ১৪ বছরের কিশোর রিফাত বলে, আমরা ইউটিউবে লাঠিখেলা দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে কখনও চোখের সামনে হতে দেখিনি। আমাদের এলাকায় এখন শুধু ক্রিকেট আর ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়।
কণ্ঠে আক্ষেপের সুর নিয়ে স্থানীয় বৃদ্ধ খোরশেদ আলম বলেন, বৈশাখের মেলায় হা-ডু-ডু খেলা না দেখলে মনে হতো উৎসবই অপূর্ণ থেকে গেছে। এখনকার মেলায় গান-বাজনা হয়, কিন্তু সেই পেশিবহুল যুবকদের শক্তি প্রদর্শনের খেলা আর দেখা যায় না। এসব খেলা আমাদের সাহসিকতা আর একতার প্রতীক ছিল।
সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, গ্রামীণ খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, এগুলো ছিল আমাদের শেকড়। ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে এই ঐতিহ্যগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। বৈশাখী মেলায় বাধ্যতামূলকভাবে গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম খেলাগুলোর সম্পর্কে জানতে পারবে।
হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধুলা পুনরুজ্জীবিত করা না গেলে এক সময় বাঙালি সংস্কৃতি থেকে এই বীরত্বগাথা চিরতরে মুছে যাবে। এবারের বৈশাখী মেলায় কি ফিরে আসবে সেই পুরোনো হা-ডু-ডু কিম্বা লাঠিখেলার আসর? এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার সচেতন মহলের।
