অবনমন থাকা না থাকার ভালো মন্দ

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি থাকাকালে আমিনুল ইসলাম বুলবুল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। বুলবুলের আমলে ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রেরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, কোনো দল যদি লিগে অংশ না নেয় বা খেলা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, সেই দল সরাসরি ডিসকোয়ালিফাইড হবে এবং নিচের বিভাগে নেমে যাবে (অবনমন)। মূলত বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের পর ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশ এই নির্বাচনকে অবৈধ দাবি করে তাদের অধীনে লিগে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন, সেই ক্লাবগুলোই অংশ নেয়নি দ্বিতীয় বিভাগে। ১২টি ক্লাব অংশ নেয়নি দ্বিতীয় বিভাগে, এই লিগ আয়োজন শেষ করতে পারেনি ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। প্রথম বিভাগে ২০ দলের মধ্যে বর্জন করেছে ৮ দল, ১২ দলের লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ধানম-ি স্পোর্টস ক্লাব। অবনমন না থাকলে নিচের দিকের ক্লাবগুলোর উন্নয়নও সম্ভব নয়, এই নিয়ে যেমন জটিলতা আছে তেমনি আশঙ্কা আছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কমে যাওয়ারও। এমনিতেই সুপার লিগ না হওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা কমে গিয়ে পারিশ্রমিক কমার আশঙ্কা আছে। সব কিছুর পরও ক্রিকেটাররা চান লিগটা হোক, একটা মৌসুম যেন হারিয়ে না যায় কালের গর্ভে।

আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাতে অংশগ্রহণ না করার কারণে প্রথম বিভাগ থেকে ৮ দল অবনমিত হয়ে যায় দ্বিতীয় বিভাগে আর দ্বিতীয় বিভাগ থেকে ১২টি দল নেমে যায় তৃতীয় বিভাগে। এমনটা হলে সৃষ্টি হবে এক ভারসাম্যহীনতার, লিগ হারাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কমে যাবে খেলার মান। মূলত বিসিবি নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ক্লাবগুলোকে শাস্তির মুখে ফেলতেই নেওয়া হয়েছিল এমন সিদ্ধান্ত। শনিবার সিসিডিএম-এর ৪৪ ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এই মৌসুমে কোনো অবনমন থাকছে না, জানিয়েছেন  ইয়াং পেগাসাস ক্লাব-এ-এর কাউন্সিলর আহসানুর রহমান মল্লিক রনি।

তবে এই মৌসুমে যে চারটি দল ওপরের স্তরে উন্নিত পেয়েছে, তাদের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলগুলো হলো গুলশান ক্লাব, ইয়াং পেগাসাস ক্লাব-এ, ধানম-ি স্পোর্টস ক্লাব ও বসুন্ধরা রাইডার্স। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রমোশন পাওয়া দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে প্রতিটি বিভাগে দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বোর্ড। সেক্ষেত্রে প্রিমিয়ার লিগের দল ১২টি থেকে বেড়ে ১৪টি এবং প্রথম বিভাগের দল ২০টি থেকে বেড়ে ২২টি হতে পারে। অবনমন না থাকলে ক্লাবগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়বে না, কারণ পয়েন্ট টেবিলে ওপরের দিকে থাকা বা না থাকায় যে কিছু আসে যায় না! ভালো ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার পরিবর্তে দায়সারা গোছের দল গড়বে ক্লাবগুলো, ফলে কমে যেতে পারে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক। লিগে অবনমন তুলে দেওয়াটা ভালো হলো না খারাপ, এমন প্রশ্নে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিথুন দেশ রূপান্তরকে জানালেন, যে কোনো মূল্যে লিগটা হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ, ‘রেলিগেশন থাকবে কি না এ ব্যপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যেটা আলোচনা হয়েছে যে, বুলবুল ভাইদের সময়ে না খেলার কারণে যে দলগুলো রেলিগেটেড হয়ে গিয়েছিল, তাদের রেলিগেটেড করা হবে না। এখন ক্রিকেটার হিসেবে আমরা চাই খেলা মাঠে থাক, কারণ একটা মৌসুম খেলা না হওয়া মানে অনেক ক্রিকেটারের আয় কমে যাওয়া। এখন রেলিগেশন না থাকলে ক্লাবগুলো দল গঠনে গুরুত্ব দেবে না কিংবা টাকা কম পাওয়া যাবে, এসব তো পরের ব্যাপার। আগে খেলাটা হোক। এবার এমনিতেই লিগে ম্যাচ কম, যেহেতু সিঙ্গেল লিগ। ম্যাচ সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু সুপার লিগ করলে দেখা যাবে লিগটা শেষ করা যাবে না, এমনিতেই অনেক সময় চলে গেছে আর মৌসুমটাও বৃষ্টির। সবাইকেই সব জায়গা থেকে কিছু ছাড় দিয়ে চলতে হবে, যেভাবেই হোক এই মৌসুমের লিগটা এই বছরেই শেষ করাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত