ঈশ্বরগঞ্জ 

চোরের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, বাড়িঘর ভাঙচুর

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একের পর এক চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী। অভিযোগ রয়েছে, বারবার সতর্ক করার পরও চুরি বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। এর জের ধরে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ক্ষিপ্ত জনতা চোরের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। 

ঘটনাটি উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের ভাসা গোকলনগর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মাজহারুল ইসলাম (৩২) দীর্ঘদিন ধরে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি করে আসছিলেন।

সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল রাতে পার্শ্ববর্তী সাধরগোলা (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের সিএনজি চালক দ্বীন ইসলামের বাড়িতে টিউবওয়েল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে তিনি। পরে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।

এদিকে, বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজহারুলের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। তবে এ ঘটনার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নেয় এলাকার যুবসমাজ।

একই দিন বিকেলে গ্রামে চুরি প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আয়োজন করেন গ্রামের যুবক আমিনুল হক সজিব, আশিকুর খান মিন্টু, হাসিবুল হাসান পরাণ, নাইম ইসলাম ও মনিরুজামান হুজাইফা।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোনোভাবেই গ্রামে চুরি হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা চোরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। পরিবারকে সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে মাজহারুল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার চুরির সঙ্গে জড়িত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৈঠকের উদ্যোক্তা হাসিবুল হাসান পরাণ ও মনিরুজামান হুজাইফা বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ভাঙচুর বা সহিংসতার পক্ষে নই। বিক্ষুব্ধ জনতা সকালে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি জানার পর সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছি।’

তারা আরও জানান, “মাজহারুল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি করে আসছিল। তাদের সংশোধনের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এখন আমরা চাই স্থায়ীভাবে চুরি বন্ধ হোক।”

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এলাকায় চুরির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই তারা প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে স্থায়ী সমাধান চান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত