কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় করলা চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে লাঠিপেটার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। গত মঙ্গলবার উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার বংশীপাড়া গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা তোলার সময় এক নারীকে (৪১) হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে সকাল ৯টার দিকে তার স্বামী বদিয়া মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এরপর উপস্থিত লোকজনের সামনেই তিনি তার স্ত্রীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত কেউ তাকে বাধা দেননি। বরং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জমির মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমার জমি থেকে প্রায়ই করলা চুরি হচ্ছিল। তাই আগে থেকেই নজর রাখছিলাম। সকালে তাকে এক বস্তা করলাসহ ওই নারীকে ধরে ফেলি। পরে তার স্বামীকে খবর দিলে তিনি এসে মারধর করেন।’
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ‘এক নারীকে করলাসহ আটক করা হয়েছিল। পরে তার স্বামী এসে তাকে শাসন করে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে মারধরের বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত।’
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ‘ঘটনার ভিডিও দেখেছি। এভাবে কাউকে গাছে বেঁধে মারধর করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
