কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যাকা-ের ঘটনায় অবশেষে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন। এ সময় বাদীর আরও দুই ভাইও উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহারে যে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহমেদ, পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ এবং ইসলামপুর (পূর্ব পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান শামীম হত্যাকা-ের ঘটনায় থানায় এজাহার জমা হওয়ার তথ্য দিয়ে জানান, এখনো এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
হত্যা মামলার এজাহারে জামায়াতের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করায় দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ার জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন।
তিনি হত্যাকা-ের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহমেদসহ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করার প্রতিবাদ করেন। তিনি অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় সেখানে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল। তারা কিন্তু আসামি হননি। তাই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে খেলাফত মজলিস নেতা আসাদুজ্জামানের মুঠোফোনে কল দিলে তার বন্ধ পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ফেসবুকের যেসব পেজ ও আইডি থেকে পীরের পুরনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে হামলার উসকানি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির অ্যাডমিন পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, এরা সবাই নানা সূত্রে সম্পর্কিত। তাদের সবার তৎপরতার যোগসূত্র বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ করছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার ‘শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে’ দরবারে হামলা চালিয়ে পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে এক দল লোক। পুলিশ প্রশাসনের নিষ্কৃয়তা ও হামলাকারীদের ভয়ে নিহতের পরিবার কোনো মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মামলার বাদী হন নিহতের বড় ভাই।
