পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে খুলশি মার্টে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে জমে উঠেছে বর্ণিল উৎসব। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে রয়েছে বিশেষ মূল্যছাড়, দেশীয় মাছ, ঐতিহ্যবাহী পিঠা-আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৈশাখকে কেন্দ্র করে ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত খুলশি মার্টে চলছে ইলিশ উৎসব। পাশাপাশি মুড়ি-মুড়কি ও দেশীয় খাবারে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ, নির্বাচিত পণ্যে ১০ শতাংশ এবং মিষ্টিতে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, বৈশাখের স্বাদ ও কেনাকাটাকে আরও সহজলভ্য করতেই এ আয়োজন।
দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘সৃজনশীলতাকে মুক্ত করো’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শিশু ও কিশোররা নিজেদের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখকে তুলে ধরে অংশ নেয় এতে। সকাল থেকেই অংশগ্রহণকারী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে আয়োজনস্থল।
প্রতিযোগিতাটি দুইটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়—৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু এবং ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। অংশগ্রহণকারীদের চিত্রকর্মে ফুটে ওঠে আলপনা, গ্রামীণ উৎসব, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও নবজাগরণের নানা প্রতীক।
শিশু বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে অপরাজিতা দাস পূর্বা, আরওয়া রাওনাক ইসলাম ও রুহানিয়া আলম। কিশোর বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে সারভিয়া হোসেন সারা, সাফীরাহ মাকারিম ও আফরিতা আনান শাকিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্ট প্রোমোটার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলশানা আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের পরিচয়ের অংশ। নতুন প্রজন্মকে এই সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এমন আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ নগরভিত্তিক খুচরা বিপণন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেনাবেচার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির চর্চার কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে প্রতিষ্ঠানগুলো, যা শহুরে বৈশাখ উদযাপনে যোগ করছে নতুন মাত্রা।
