অ্যালিয়ানজ অ্যারেনার ঘাস সাক্ষী থাকল চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক কোয়ার্টার ফাইনালের। যেখানে গতির লড়াই ছিল, ছিল ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস আর শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা। রিয়াল মাদ্রিদকে দ্বিতীয় লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল বায়ার্ন মিউনিখ। তবে এই জয় কেবল একটি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা নয়, এটি বায়ার্নের নতুন এক আক্রমণাত্মক জুটির রাজকীয় অভিষেক যাকে ফুটবল বিশ্ব এখন ডাকছে ‘রবারি ২.০’ নামে।
ম্যাচটি শুরু হতে না হতেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল মিউনিখের সমর্থকরা। ঘড়ির কাঁটা ৫০ সেকেন্ড পেরোনোর আগেই বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের এক অমার্জনীয় পাস ইন্টারসেপ্ট করেন আরদা গুলের। মাঝমাঠের একটু সামনে থেকে গুলেরের নেওয়া বাঁ পায়ের সেই দূরপাল্লার শট নয়ারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে লিড নেয় রিয়াল।
তবে বায়ার্ন ফিরতে সময় নেয়নি। ৫ মিনিটে জশুয়া কিমিচের নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে আলেকসান্দার পাভলোভিচ গোল করে সমতা ফেরান। ম্যাচের ২৯ মিনিটে আবারও আরদা গুলেরের ঝলক; এবার ২৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক ফ্রি-কিকে নয়ারকে পরাস্ত করে নিজের ব্রেস পূর্ণ করেন এই তুর্কি বিস্ময় বালক। বিরতির ঠিক আগে হ্যারি কেইন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল বিনিময় প্রথমার্ধকে ৫ গোলের এক রোমাঞ্চকর থ্রিলারে পরিণত করে।
দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইটা যখন সেয়ানে সেয়ানে চলছিল, তখন ৮৬ মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের চিত্রপট। বায়ার্নের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ১০ জনের রিয়ালকে পেয়ে ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বায়ার্ন। ৮৯ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার ব্যাকহিল থেকে বল পান বায়ার্নের নতুন সাইনিং লুইস দিয়াজ। বক্সের বাঁ দিক থেকে কোনাকুনি এক বুলেট গতির শটে স্কোরলাইন ৩-৩ (গোলগড় ৫-৪) করে দেন এই কলম্বিয়ান। পুরো স্টেডিয়াম তখন দিয়াজের নামে প্রকম্পিত।
ম্যাচের যখন যোগ করা সময় (অতিরিক্ত চতুর্থ মিনিট), তখন ফুটবলীয় যুক্তি ছিল বল নিয়ে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা। কিন্তু বায়ার্নের ফরাসি জাদুকর মাইকেল ওলিস চাইলেন অন্য কিছু। ঠিক এক দশক আগে আরিয়েন রোবেন যেভাবে ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে শট নিতেন, ওলিস আজ যেন সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন। ফার্লান্ড মেন্ডিকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে বাঁ পায়ের নিখুঁত কার্লিং শটে বল জালে জড়ান তিনি। রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিন কেবল চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে লাল কার্ড দেখেন রিয়ালের গোলদাতা আরদা গুলেরও। বায়ার্ন মিউনিখ এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে লড়বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে। যেখানে এমবাপ্পের পুরনো ক্লাব বনাম বর্তমান ক্লাবের দ্বৈরথ আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আপাতত মিউনিখের রাতটি শুধুই দিয়াজ আর ওলিসের, যারা রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ আধিপত্যকে ধুলোয় মিশিয়ে এক নতুন সাম্রাজ্যের ঘোষণা দিলেন।
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ পিএসজির উদ্দেশে যথেষ্ট সম্মান রেখেই কেইন বলেন, ‘আমরা জানি পিএসজি ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমরা যদি আমাদের সেরা ফুটবলটা খেলতে পারি, তবে বিশ্বের যেকোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি। সেমিফাইনালে জেতার জন্য আমাদের সেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলাটাই খেলতে হবে।’
